এসইও কি? এসইও কিভাবে করতে হয়?

এসইও মূলত ডিজিটাল মার্কেটিং একটা পার্ট। আপনি যদি এসইও সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চান যেমন এসইও কি? কিভাবে এসইও করতে হয়? এসইও কয় প্রকার? এসব প্রশ্নের উত্তর জানতে কন্টেন্ট কি ধৈর্য ধরে পড়ার অনুরোধ করছি। 

এসইও কি?

সার্চ ইঞ্জিন অপ্টিমাইজেশন এর সংক্ষিপ্ত রুপ হলো এসইও। এটি এমন একটি প্রোসেস যার মাধ্যমে কোনো ওয়েবসাইট বা কন্টেন্টকে সার্চ ইঞ্জিনগুলোর টপ র‍্যাংকিং আনা যায়। এসইও ও পেইড এডাভার্টাইজের মধ্যে মূল পার্থক্য হলো পেইড বিজ্ঞাপনে টাকা খরচ করে ট্রাফিক আনতে হয় আর এসইও তে অর্গানিক্যালি ট্রাফিক আসে। সহজ কথায় এসইও হলো একটি কন্টেন্টকে এমনভাবে অপ্টিমাইজড করা যাতে সার্চ ইঞ্জিন যেমন গুগল সেই কন্টেন্ট বা ওয়েবসাইটকে র‍্যাংকিং এ উপরে রাখে। সার্চ ইঞ্জিনের মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় হলো গুগল। প্রায় ৭৫শতাংশ সার্চকারী এই ইঞ্জিনেই তার প্রয়োজনীয় ডাটা বা তথ্যের খোজ করে। আপনার কন্টেন্ট কিভাবে সার্চ ইঞ্জিনে র‍্যাংক করবে সেটা ভালো করে বুঝার জন্যে আপনাকে জানতে হবে যে সার্চ ইঞ্জিন আসলে কি? এটি কিভাবে কাজ করে।

সার্চ ইঞ্জিন কি?

সার্চ ইঞ্জিন হলো ইন্টারনেটের সেসব সাইটগুলো যেগুলোতে আমরা কোনো তথ্য জানতে চাই। যেমন গুগল একটি সার্চ ইঞ্জিন, এর মাধ্যমে আমরা যা সার্চ করি গুগল আমাদের রেজাল্ট দেখায়। গুগল আসলে রোবটের মাধ্যমে ইন্টারনেটে থাকা সকল ওয়েব পেইজের ডাটা তাদের ডাটাবেজে সেইভ করে রাখে। এই ডাটাবেজের মধ্যে আপনার ওয়েবপেইজটিও থাকবে। তবে হাজার হাজার ডাটার মধ্যে গুগল সেগুলোকেই র‍্যাংকিং এ সামনে রাখে যেগুলো এসইও ফ্রেন্ডলি। অর্থাৎ আপনার কণ্টেন্ট বা ওয়েবপেইজটি যদি এসইও অপ্টিমাইজড হয় তবে তা সার্চ ইঞ্জিনে র‍্যাংক করবে। 

অর্গানিক এসইও এবং পেইড এসইও কি?

অর্গানিক এসইও হলো যে ধরনের এসইও করতে আপনাকে সার্চ ইঞ্জিনকে সরাসরি কোনো টাকা পে করতে হয় না। আপনি এসইও র সব নিয়ম কানুন মেনে আপনার কন্টেন্ট বা ওয়েবসাইটের এসইও করলে সেটি অটোমেটিক সার্চ ইঞ্জিনে র‍্যাংক করবে। আর যখন আপনি আপনার কন্টেন্ট বা ওয়েবপেইজ সার্চ ইঞ্জিনে র‍্যাংক করানোর জন্যে সরাসরি সার্চ ইঞ্জিন কর্তৃপক্ষকে পে করবেন তখন তারা আপনার পেইজকে নির্দিষ্ট সময়ের জন্যে সার্চ ইঞ্জিনের প্রথম পাতায় দেখাবে। আমরা মাঝে মাঝে গুগলে এমন ওয়েবপেজ দেখি যেগুলোর সাথে Ads লেখা থাকে। মূলত এগুলোই পেইড এসইও।

এসইও কত প্রকার ও কি কি?

এসইও বিভিন্ন রকমের হতে পারে তার মধ্যে বেসিক প্রকারগুলো উল্লেখ করা হলো।

১. অন পেইজ এসইও

২. অফ পেইজ এসইও

৩. টেকনিক্যাল এসইও

৪. কন্টেন্ট এসইও 

৫. লোকাল এসইও

White Hat ও Black Hat এসইও

Search engine গুলো তাদের এলগোরিদমে পরিবর্তন এনেছে। তাই এখন আগের মতো সব কি- ওয়ার্ড দিয়ে কন্টেন্ট র‍্যাংক করা যায় না। এ বিষয় মাথায় রেখে এসইও এক্সপার্টগন এসইও কে দুই ভাগে ভাগ করেছেন। চলুন ছোট করে এই দুই প্রকার এসইও সম্পর্কে জেনে নিই।

White Hat SEO

হোয়াইট হ্যাট এসইও হলো, যেখানে সার্চ ইঞ্জিনের সকল রুলস মেনে কাজ করা হয়। বর্তমানে এই পদ্ধতি অনুসরন করে কাজ করলে সার্চ ইঞ্জিনে ভালো র‍্যাংক করা যায়। এটি সার্চ ইঞ্জিনের অনুমোদিত পদ্ধতি। 

Black Hat SEO

এটা সহজেই বুঝা যাচ্ছে যে হোয়াইট হেট যেহেতু রুলস মেনে চলে তাহলে ব্লাক হেট রুলস মেনে চলবে না। অর্থাৎ যে প্রক্রিয়ায় এসইও করলে সার্চ ইঞ্জিনের নিয়ম ভঙ্গ হয় তাকে ব্ল্যাক হেট এসইও বলে। এই পদ্ধতিতে বিভিন্ন সফটওয়্যার ব্যবহার করে কৃত্রিম ব্যাক লিংক তৈরি করা হয়। এতে মানুষজন দ্রুত এসব ওয়েবসাইট খুজে পায়। কিন্তু কোনোভাবে সার্চ ইঞ্জিন তা ধরতে পারলে সেই ওয়েবসাইটকে বাতিল করে দেয়। আর একবার ওয়েবসাইট ব্লাক লিস্টেড হলে পুনরায় তা র‍্যাংক করানো অনেক কঠিন।

নতুন ওয়েবসাইটের জন্যে কিভাবে  এসইও করতে হয়?

এসইও একটি দীর্ঘমেয়াদী প্রক্রিয়া বলতে পারেন। অর্গানিকভাবে এসইও করে ওয়েবসাইটে ভিজিটর বাড়ানো রাতারাতি সম্ভব হয়ে উঠে না। এসইও র কৌশল প্রতিনিয়ত পরিবর্তন ও আপডেট সেসব নিয়মের সাথে সামঞ্জস্য রেখেই এসইও করতে হবে। তবে এসইও র কিছু বেসিক গঠন যেগুলো সব সময়-ই লাগবে তা হলোঃ

১। ওয়েবসাইটকে গুগল সার্চ কন্সোলের সাথে এড করে নেয়া।

২। ওয়েব মাস্টার টুল সাবমিট করতে হয়

৩।  গুগল এনালিটিক্স একাউন্ট তৈরি করে সেখানে ওয়েবসাইট ভেরিফিকেশন করে নেয়া।

৪। ওয়ার্ডপ্রেস ওয়েবসাইট হলে সেখানে Rank Math SEO বা Yeast SEO বা অন্য কোনো এসইও প্লাগিন এড করে নিতে হবে। 

অন পেইজ এসইও

অন পেইজ এসইও হলো ওয়েব পেইজের কন্টেন্ট কিংবা প্রোডাক্টের টাইটেল, URL, ডেসক্রিপশন, মেটা ডেসক্রিপশন, ইন্টারনাল লিংকিং বডি কন্টেন্ট অপ্টিমাইজ করা বা সার্চ ইঞ্জিনের উপযোগী করে তোলা। একটা কন্টেন্ট বা প্রোডাক্টের অন পেইজ এসইও যত ভালো হবে সেই ওয়েবসাইটটি তত দ্রুত সার্চ ইঞ্জিনে র‍্যাংক করে নেবে। ওয়েবসাইটের ভিতরে ওয়েব পেইজে এই কাজগুলো করা হয় । তাই একে অন পেইজ এসইও বলে। এখানে কিছু নিয়ম উল্লেখ করা হলোঃ 

  • প্রোডাক্টের ইউআরএল ছোট রাখার চেষ্টা করা।
  • ইউ আরএলে মূল কি ওয়ার্ড রাখা। 
  • ইমেজ অপ্টিমাইজ করা ও প্রয়োজনীয় এক্সটারনাল ও ইন্টারনাল লিংক যুক্ত করা।

অফ পেইজ এসইও

ওয়েবসাইটের বাইরে থেকে ওয়েবসাইটকে র‍্যাংক করানোর জন্যে যেসব কাজ করা হয় সেগুলোই হলো অফ পেইজ এসইও । যেমনঃ বিভিন্ন সোস্যাল সাইটে ওয়েবসাইটের লিংক শেয়ার করা, সাইটেশন বিল্ডিং, ফোরাম ব্যাক লিংক তৈরি। ব্যাক লিংক হলো এমন যে, আপনার ওয়েবপেইজের কোনো ভিজিটর যখন অন্য জায়গায় আপনার ওয়েবসাইটকে প্রমোট করে বা আপনার পেইজ বা ওয়েবসাইটকে মেনশন করে। এর ফলে আপনার ওয়েবসাইটের ব্যাক লিংক তৈরি হয়। এজন্যে লিস্টিং বা ডিরেক্টরিতে আপনার কন্টেন্ট যুক্ত করে দিতে পারেন। ফোরাম পোস্টিং করে বিভিন্ন সমস্যার সমাধান করতে পারেন। বিভিন্ন ব্লগের কমেন্ট সেকশনে ওয়েবসাইটে লিংক পুশ করতে পারেন।

টেকনিক্যাল এসইও

ওয়েবসাইটের অভ্যন্তরীন স্ট্রাকচারকে সার্চ ইঞ্জিনের সাথে সামঞ্জস্য রেখে গড় তোলাই হলো টেকনিক্যাল এসইও। এর মধ্যে রয়েছে, ওয়েবসাইটের ডিজাইন, মোবাইল ইউজার ফ্রেন্ডলি, পেইজ লোডিং স্পীড, ফিক্সড ব্রোকেন লিংক, ক্রল এরোর মুক্ত রাখা, এসএসএল সার্টিফিকেট ইত্যাদি। 

কেন এসইও করতে হয়?

যেকোনো কন্টেন্ট বা ওয়েবসাইটকে সবার কাছে তুলে ধরার উপায় বা বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় করে তোলার উপায় হলো সেটাকে সার্চ ইঞ্জিনে র‍্যাংক করানো। আর সার্চ ইঞ্জিনে র‍্যাংক করানোর কাজটি করা হয় এসইও র মাধ্যমে। কয়েকটি জনপ্রিয় সার্চ ইঞ্জিন হলো google, yahoo, Bing, MSN  ইত্যাদি এদের কাজ হলো ওয়েবসাইটের ডাটাগুলো ধরে রাখা আর যখন-ই কোনো ইউজার সার্চ করে তখন তাকে রেজাল্ট দেখানো। এখন সার্চ ইঞ্জিন গুলোতে একই বিষয়ে অনেক অনেক কন্টেন্ট বা ওয়েবসাইট থাকে। যেমন ধরুন আপনি অনলাইনে টি-শার্ট সেইল করেন । এখন আপনার X নামে একটি ওয়েবসাইট আছে । এখন টি শার্ট সেল করে এমন বহু ওয়েবসাইট কিন্তু আমাদের দেশেই রয়েছে। কেউ যখন টি শার্ট লিখে গুগলে বা অন্য কোনো সার্চ ইঞ্জিনে সার্চ করে তখন সেই সার্চ ইঞ্জিন কার ওয়েবসাইট আগে দেখাবে? আর যেই ওয়েবসাইটগুলো প্রথম দিকে থাকে ইউজার সেই ওয়েবসাইট গুলোই বেশি ভিজিট করে সেজন্যে এই ওয়েবসাইটগুলোতেই বেশি সেল হয়। সার্চ ইঞ্জিন সেইসব ওয়েবসাইটকেই প্রথমে দেখাবে যেই ওয়েবসাইটগুলো এসইও অপ্টমাইজড করা। তাহলেই বুঝতেই পারছেন, আপনার বেশি বেশি ট্রাফিক পেতে বা সেল জেনারেট করতে এসইও বিকল্প নেই। 

কেন এসইও শিখবেন?

এসইও বর্তমানে খুবই চাহিদা সম্পন্ন একটি ডিজিটাল মার্কেটিং কোর্স। আপনার নিজের ব্যবসা থাকলে এটি খুবই কাজে দিবে । আর এসইও র কাজ এখন এভেইলেবল পাওয়া যায়। আপনি একজন এক্সপার্ট এসইও স্পেশালিস্ট হতে পারলে মার্কেটপ্লেস ও মার্কেটপ্লেসের বাইর থেকে কাজ করে ভালো টাকা অর্জন করতে পারবে। 

কোথায় থেকে এসইও শিখবেন?

ডিজিটাল মার্কেটিং এর এই কাজগুলো আপনি চাইলে ইউটিউব থেকে শিখতে পারেন অথবা কোনো ভালো প্রতিষ্ঠান থেকে শিখতে পারেন। তবে ইউটিউব থেকে শিখার ধৈর্য বেশির ভাগ মানুষেরই হয় না। আর এখানে পর্যাপ্ত গাইডলাইন ও প্রোব্লেম সলভিং এর সুযোগ না থাকায় অনেকের কিছুদূর এগিয়ে আর সম্পূর্ন করা হয় না। তাতে শুধু সময় নষ্ট হয়। তবে কোনো পেইড কোর্স করলে সেক্ষেত্রে আপনার যেমন শিখার একটা আগ্রহ থাকবে তেমনি ভালোভাবে স্কিলড হয়ে বের হতে পারবেন যা আপনার জীবনে কাজে দিবে। তবে যাদের প্রচুর ধৈর্য আছে সেই সাথে বিদেশী ভাষা বুঝেন তারা চাইলে ইউটিউব থেকেই শিখতে পারেন কারন এখানে অনেক ভালো ভালো কন্টেন্ট আছে। 

উপসংহার

এসইওর আসলেই প্রচুর চাহিদা রয়েছে। এই এসইও-ই অনলাইন ব্যবসা গুলোর সফলতার অন্যতম চাবিকাঠি। এই ছিলো আজকে আমাদের এসইও নিয়ে মোটামুটি কথাবার্তা । আশা করি আর্টিকেলটি আপনাদের উপকারে আসবে। যারা সময় নিয়ে আর্টিকেলটি পড়েছেন সবাইর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

 

4728dbbc5c6763f37c33f5ebb100ad9e?s=150&d=mm&r=g

Tanvir Brain

 themarketerbd@gmail.com  https://www.monsterbangla.com

We will be happy to hear your oughts

Leave a reply

Monster Bangla
Logo
Compare items
  • Total (0)
Compare
Shopping cart