প্রিন্টার কি? প্রিন্টার কত প্রকার ও কি কি?

প্রিন্টার সম্পর্কে আমরা অনেকেই কিছুটা জানি। এটি কি কাজে ব্যবহৃত সে সম্পর্কেও আমাদের মোটামুটি ধারণা রয়েছে । বিজনেস এডুকেশন সহ বিভিন্ন কারণে এই ডিভাইসটি মূলত ব্যবহার করা হয়।  দৈনন্দিন জীবনে প্রিন্টারের ভূমিকা অনস্বীকার্য। এই ডিভাইসটির ছাড়া ডকুমেন্টেশন উপস্থাপন করা কিংবা সংরক্ষণ করা পুরোপুরি অসম্ভব।  আমরা যত ডিজিটালি কাজ করি না কেন অবশ্যই আমাদের এমন কিছু বস্তু আছে যা সর্বদা ফিজিক্যালি হিসেবে  বেশি প্রাধান্য পায়। আপনি যদি একটি জায়গা কিনেন কিংবা একটি দোকান কিনেন তবে আপনার অবশ্যই দলিলের সম্মুখীন হতে হবে। আপনি যদি ডিজিটালি সবকিছু ম্যানেজ করেন তবুও এই কেনাবেচা সম্পর্কে অবশ্যই আপনার ফিজিক্যালি কাগজপত্র বহন করতে হবে আর সেই সূত্রেই অবশ্যই আপনাকে প্রিন্টেড কাগজের  সাহায্যের সম্মুখীন হতে হবে।  আজকের এই আর্টিকেলে আমরা আলোচনা করবো তিনটা সম্পর্কে।  আমরা আলোচনা করব প্রিন্টার কি এবং প্রিন্টার কত প্রকার ও কি কি।  বিস্তারিত জানতে পুরোপুরি আর্টিকেলটি পড়ার অনুরোধ রইল আশাকরি এই প্রিন্টার সম্পর্কে সম্পর্কে আপনার একটি  বেশ ভালো ধারণা লাভ করতে পারবেন।

প্রিন্টার কি? (What is Printer in Bangla)

কোনো গ্রাফ, লেখা বা ছবিকে কম্পিউটারে প্রোসেসিং করার পর তা আউটপুট হিসেবে কাগজে পাওয়ার জন্যে যে ডিভাইস ব্যবহার করা হয় তাকে প্রিন্টার বলে। তাই প্রিন্টারকে কম্পিউটারের একটি আউটপুট ডিভাইস বলা চলে। সাধারন একজন কম্পিউটার ইউজার বা ছোট স্ট্যাশনারি থেকে শুরু করে বড় বড় অফিস পর্যন্ত সবখানেই এই ইলেকট্রনিক ডিভাইসটি ব্যবহৃত হয়। এক সময় শুধু সাদা কালো প্রিন্ট আউট করা গেলেও এখন যেকোনো রকমের প্রিন্ট করা যায়। আর পূর্বে প্রিন্টার আর কম্পিউটারের মধ্যে কানেকশন রাখা লাগতো কাজ করার সময় কিন্তু এখন ওয়্যারলেস প্রিন্টার আছে যেগুলো দিয়ে কানেকশন ছাড়াই অনেক দূর পর্যন্ত প্রিন্টিং এর কাজ করা যায়। আমাদের আজকের আর্টিকেলটি সাজানো হয়েছে প্রিন্টার এর বিষয় নিয়ে যেমন প্রিন্টার কি?(what is printer) প্রিন্টার কত প্রকার? প্রিন্টারের দাম ইত্যাদি । এসব প্রশ্নের উত্তর জানতে আর্টিকেলটি শেষ পর্যন্ত পড়ার অনু্রোধ রইল।

প্রিন্টারের ইতিহাস

পৃথিবীর প্রথম প্রিন্টার ছিলো কম্পিউটারের অন্যতম আবিষ্কারক  বিজ্ঞানী চার্লস ব্যবেজের। এটি একটি মেকানিক্যাল টাইফ প্রিন্টার ছিলো যাতে লোহার রডে অক্ষর ছাপা থাকতো। পৃথিবীর প্রথম বানিজ্যিক প্রিন্টার ছিলো ইলেকট্রিক টাইফরাইটার ও টেলিটাইফ যা চার্লস ব্যাবেজের এই পদ্ধতিতে কাজ করত। কিন্তু এই পদ্ধতি ছিলো সময়সাপেক্ষ। কম্পিউটারের অগ্রগতির সাথে সাথে প্রয়োজনীয়তা দেখা দিলো দ্রুত গতির প্রিন্টারের। এরপর কিছু কিছু আপডেট আসে প্রিন্টারের যেগুলো কিছুটা দ্রুত কাজ করলেও আশানুরুপ ফলাফল দিতো না অর্থাৎ একই সাথে টেক্সট, গ্রাফ, ছবির আউটপুট দিতে পারলেও তা নিম্নমানের হতো। মূলত প্রিন্টারের বিপ্লব আসে ১৯৮৪ সালে যখন HP লেজার প্রিন্ট আবিষ্কার করে। আবার পরবর্তীতে এক বছরের মধ্যেই আসে এপোলের পোস্টস্ক্রিপ্ট লেজার রাইটার । এগুলো ছিল প্রিন্টারের আপডেট ভার্সন এবং উচ্চ ক্ষমতাসমন্ন। ১৯৯০ সালের পর থেকে ইন্টারনেট, ই-মেইলের দ্রুত এগিয়ে যাওয়ার কারনে প্রিন্টারের গুরুত্ব আস্তে আস্তে কমে আসে। কারন তখন থেকেই এগুলো ডিভাইসে সফটকপি করে রাখা যেতো। এক সময় যেসব কিছু আমরা কাগজে পড়তাম সেসবের অনেক কিছুই এখন আমরা মোবাইল, লেপটোপে কিংবা ট্যাবে পড়ি। এজন্যে তৎকালীন সময়ের চেয়ে এখন প্রিন্টারের গুরুত্ব কিছুটা কমলেও অফিস আদালতের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাগজ পত্রের জন্যে এখনো প্রিন্টারের অনেক প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।

প্রিন্টারের প্রকারভেদ

বিভিন্ন টেকনোলজি ও স্পেসিফিকেশনের ভিত্তিতে প্রিন্টারকে বিভিন্ন ভাগে ভাগ করা গেলেও মূখ্যত প্রিন্টারকে ২ভাগে ভাগ করা যায়। দেখে নিই প্রকারগুলো কি কিঃ

১. impact printer

২. Non-impact printer

এখন জেনে নিবো এই ২ প্রকার প্রিন্টার সম্পর্কে বিস্তারিত।

ইমপ্যাক্ট প্রিন্টার

ইমপ্যাক্ট প্রিন্টারগুলো  একটি ইলেক্ট্রো-মেকানিক্যাল পদ্ধতি ব্যবহার করে। ইমপ্যাক্ট প্রিন্টার বলতে সেই সমস্ত প্রিন্টারকে বোঝায় যাদের প্রিন্টিং হেড কাগজকে স্পর্শ করে। ইমপ্যাক্ট প্রিন্টার অনেকটা টাইফরাইটারের মতো। এটি ছাপার কালির রিবনের উপর জোরে জোরে চাপ প্রয়োগ করে এর ফলে টেক্সট বা ছবি কাগজের উপরে উঠে। ইমপ্যাক্ট প্রিন্টারে দুটি বৈশিষ্ট্য হলো এই ধরনের প্রিন্টার থেকে শব্দ বের হয় এবং এগুলো দামে অনেক সস্তা হয়। এই প্রিন্টারগুলো অনেকটা পুরোনো টেকনোলজি দ্বারা অপারেট করে। তাই আজকের দিনে এ ধরনের প্রিন্টারের চাহিদা অনেক কম। যাই হউক ইমপ্যাক্ট প্রিন্টার আবার ২ ধরনের হয় যথাঃ ১. Charectaer Printer ২. Line Printer

ক্যারেক্টার প্রিন্টার

একটি ক্যারেক্টার প্রিন্টার একই সময়ে একটি একক অক্ষর মুদ্রণ করে। এটি খুবই কম গতির প্রিন্টার। মুদ্রণের গতি প্রতি সেকেন্ডে ১০-৬০০ অক্ষর। ক্যারেক্টার টাইফ প্রিণ্টার আবার ২ রকমের হয় ।

এক. ডেইজি হইল প্রিন্টার

এ ধরনের প্রিন্টারকে লেটার কোয়ালিটি প্রিন্টারও বলা হয়। এ ধরনের প্রিন্টার দেখতে চাকার মতো ও ফন্টগুলো চাকার মত করে তৈরি হয় এ জন্যে একে ডেইজি হুইল প্রিন্টার বলা হয়। এটি প্রতি সেকেন্ডে ১০-৭০ অক্ষর প্রিন্ট করতে পারে। ইলেকট্রনিক টাইফ রাইটারে এ ধরনের প্রিন্টার সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করা হয়। এই প্রিন্টারের সুবিধা হলো খুবই কোয়ালিটি সম্পন্ন আউটপুট দিবে। অক্ষরগুলো খুবই স্পষ্ট হবে। তবে এই প্রিন্টার সম্ভবত সুবিধার চেয়ে অসুবিধা বেশি দেয় যেমনঃ খরচ বেশি, উচ্চ শব্দ করে, গ্রাফিক্স প্রিন্ট করতে পারে না।

দুই.  ডট মেট্রিক্স প্রিন্টার

এটি ক্যারেক্টার প্রিন্টারের আরেকটি ধরন। এই প্রিন্টারগুলো বিন্দু বা ডটস এর মতো করে প্রতিটি অক্ষর মুদ্রন করে। গনিতের মেট্রিক্স এ যেমন কলাম ও রো থাকে তেমনি এই প্রিন্টারও নির্দিষ্ট কলাম ও রো হিসেবে প্রিন্ট করে। এজন্যেই এর নাম ডট মেট্রিক্স প্রিন্টার। এর মধ্যে ৯টি সারি ও ৭টি কলাম থাকে। প্রিণ্টিং এর আকার হয় ছোট বিন্দুর মতো। ডট মেট্রিক্স প্রিন্টারের প্রিন্টিং ডেইজি হুইল থেকে বাজে হয়। কিন্তু প্রিন্টিং স্পীডটা বেশি হয় যা সেকেন্ডে প্রায় ৪০-৬০০ অক্ষরের মতো।  এর সুবিধা হলো এটি বিভিন্ন আকারে অক্ষর প্রিন্ট করতে পারে। আবার গ্রাফ চার্টও প্রিন্ট করতে পারে। আলাদা আলাদা শীটের পরিবর্তে এটি কন্টিনিউ কাগজেই প্রিন্ট করতে সক্ষম। এ প্রিন্টারের অসুবিধা হলোঃ এটি উচ্চ শব্দ সৃষ্টি করে। এর প্রিন্টিং খুব একটা ভালো নয়। 

এখন বলবো লাইন প্রিন্টার নিয়ে।

লাইন প্রিন্টার

একইসাথে একটি সম্পূর্ণ লাইন প্রিন্ট করতে পারে বিধায় এর নাম লাইন প্রিন্টার। এ ধরনের প্রিন্টারে বড় আউটপুট পাওয়া যায়। এটা অনেকটা ইমপ্যাক্ট প্রিন্টারের মতোই যেখানে শুধু মিনি এবং মেইনফ্রেম কম্পিউটার ব্যবহার হয়। এর প্রিন্টিং স্পীড প্রতি মিনিটে ৩০০-৩০০০ অক্ষর। আসলে এই প্রিন্টারও এক সাথে একটি অক্ষর প্রিন্ট করে তবে আউটপুটে সম্পূর্ণ লাইন একসাথে দেয়ার কারনেই এটিকে লাইন প্রিন্টার বলা হয়।

লাইন প্রিন্টারকে আবার ২ ভাগ করা হয়েছে। 

১. ড্রাম প্রিন্টার 

২. চেইন প্রিন্টার

ড্রাম প্রিন্টার

সিলিন্ডার আকৃতির ড্রাম নিয়ে গঠিত হয় ড্রাম প্রিন্টার। ড্রামের সার্ফেস বা তলে প্রত্যেকটি ক্যারেক্টার ইনপুট করে রাখা হয়। হেমারের একটি সেট প্রতিটি অক্ষরের সাথে জুড়ে থাকে। ড্রামটি ঘুরতে ঘুরতে যখনি প্রয়োজনীয় অক্ষরটি সামনে আসে তখনি হ্যামার সেই অক্ষরটির প্রতিলিপি নিয়ে নেয়। হ্যামারের সাথে কাগজ থাকে ফলে ঐ কাগজে নির্দিষ্ট অক্ষর উঠে যায়।

চেইন প্রিন্টার

চেইন প্রিন্টারে একটি চেইনে সবগুলো অক্ষর আগে থেকেই ইনপুট করা থাকে। প্রিন্ট চেইন খুব দ্রুত ঘোরে। চেইনের প্রতিটি লিঙ্কের সাথে অক্ষর ফন্ট রয়েছে। প্রতিটি প্রিন্টারে ম্যাগনেটিক হ্যামার রয়েছে এবং যেসব অক্ষরগুলো প্রিন্ট করতে হবে তা প্রসেসরের মাধ্যমে প্রিন্টার দ্বারা গ্রহণ করা হয়। যখন টার্গেট করা অক্ষরটি প্রিন্টিং এর অবস্থানে আসে তখন হ্যামার সেই অক্ষর কাগজে পুশ করে একবারে একটি লাইন প্রিন্ট করে। এর গতি প্রতি মিনিটে ৪০০-২৪০০০ ক্যারেক্টার পর্যন্ত।

নন ইমপ্যাক্ট প্রিন্টার

এই ধরনের প্রিন্টার কালি এবং বিশেষ ইলেক্ট্রিক্যাল মেশিন ব্যবহার করে। এখানে লেজার টেকনোলজি কাজ করে। আজকের দিনে বেশিরভাগ প্রিন্টিং এই প্রিন্টার ব্যবহার করে করা হয়। নন ইমপ্যাক্ট প্রিন্টারকে ৩ ভাগে ভাগ করা হয়েছে। এগুলো হলোঃ 

১.লেজার প্রিটার 

২.ইঙ্কজেট প্রিন্টার 

৩.থার্মাল প্রিন্টার

লেজার প্রিন্টার

লেজার প্রিন্টার একসাথে একটি সম্পূর্ণ পেইজ প্রিন্ট করতে পারে। এজন্যে একে পেইজ প্রিন্টারও বলা হয়। লেজার প্রিন্ট ইলেকট্রনিক্স, লেজার, জেরোগ্রাফি এবং অন্যান্য টেকনিক ব্যবহার করে, যেটাকে ইলেকট্রোফটোগ্রাফিক টেকনিক বলা হয়। বর্তমানে এই প্রিন্টার অনেক বেশি ব্যবহার হয়।

লেজার প্রিন্টারের অনেকগুলো সুবিধা রয়েছে যেমনঃ

  • খুব দ্রুত কাজ করে।
  • সামান্য শব্দ হয় যা অন্যান্য প্রিন্টারের তুলনায় নগন্য।
  • অনেকটা হুবহু আউটপুট পাওয়া যায় যা খুবই কোয়ালিটি সম্পূর্ণ।
  • অনেক বেশি ফন্ট ও ক্যারেক্টার সাফোর্ট করে।
  • কালার প্রিন্ট করতে পারে ও গ্রাফিক অনেক সুন্দর হয়।
  • লেজারে প্রিন্টারের অসুবিধা বলতে এটি খুবই ব্য্যবহুল।

ইঙ্কজেট প্রিন্টার

এটি এক ধরনের নন ইমপ্যাক্ট ক্যারেক্টার প্রিন্টার। অনেকটা ডট মেট্রিক্স পদ্ধতিতে কাজ করে। ডট গুলো হয় কালির ফোটা থেকে। এ ধরনের প্রিন্টার প্রতি সেকেন্ডে ৪০-৩০০ ক্যারেক্টার এবং অনেক কালারের  প্রিন্ট করতে পারে। এর বিশেষ সুবিধা হলো এর গ্রাফিক্স ও টেক্সট অনেক বেশি উন্নত মানের। আর কোনো বিরক্তিকর শব্দ তৈরি করে না। তবে এই প্রিন্টারের কার্টিজগুলো অনেক দামী।

থার্মাল প্রিন্টার

এই প্রিন্টারে ক্যামিক্যালি প্রোসেসড এক ধরনের পেপার ব্যবহার করা হয়। এটি এক ধরনের হিট সেন্সেটিভ পেপার । এই পেপারের উপর সেই ইলেক্ট্রিক হিট পড়লে তা কালো বর্ণ ধারন করে । এরপর মেট্রিক্স ডট এর মতো ক্যারেক্টার তৈরি করে। কালি বা রিবোন কোনোটাই এই প্রিন্টারে ব্যবহার হয় না। আমাদের দেশে অবশ্য এ ধরনের প্রিন্টার খুব একটা ব্যবহার হয় না।

প্রিন্টার নিয়ে কিছু প্রশ্ন-উত্তর

অনেকের প্রশ্ন থাকে, প্রিন্টারের দাম কত?  লেজার প্রিন্টার এর দাম কত? প্রিন্টারের কালির দাম কত?

সাধারনত আমাদের দেশে প্রায় ৫হাজার থেকে শুরু করে ৫০কিংবা ৬০ হাজার টাকার প্রিন্টার পাওয়া যায়। 

মোটামুটি ৮-১০ হাজার টাকার মধ্যে চাইলে লেজার প্রিন্টার কিনতে পারবেন। সর্বোচ্চ ৫০হাজার টাকা বা তার অধিক দামেরও লেজার প্রিন্টার রয়েছে।

প্রিন্টারের কালির দাম ন্যূনতম ৩০০ টাকা থেকে আরো অনেক দামী কালি আছে। প্রিন্টারের কার্টিজ রয়েছে বিভিন্ন রেটের। যেগুলো সাদা কালো ও কালার প্রিন্টিং এর উপর নির্ভর করে বিভিন্ন রেটের হয়।

শেষকথা

উপরের আলোচনায় প্রিন্টার নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করার চেষ্টা করেছি । এই আর্টিকেল থেকে কোনো অংশ যদি আপনাদের উপকারে আসে তাহলেই আমরা স্বার্থক। যারা মূল্যবান সময় দিয়ে আর্টিকেলটি পড়েছেন সকলকে অনেক ধন্যবাদ।

 

4728dbbc5c6763f37c33f5ebb100ad9e?s=150&d=mm&r=g

Tanvir Brain

 themarketerbd@gmail.com  https://www.monsterbangla.com

We will be happy to hear your oughts

Leave a reply

Monster Bangla
Logo
Compare items
  • Total (0)
Compare
Shopping cart