এনিমেশন কি এবং কাকে বলে? এনিমেশন সম্পর্কে জানুন

বর্তমান সময়ে জনপ্রিয় পেশার মধ্যে একটি হলো মোশন ডিজাইন। ইহার চাহিদা দিন দিন বেড়েই চলছে। কারন মানুষ চলন্ত বস্তু সব থেকে বেশি পছন্দ করে। আমাদের দেশে এনিমেশনের চাহিদা ব্যাপক। বিশেষ ভাবে বিজ্ঞাপনের এনিমেশন বেশ জনপ্রিয় এই দেশে।

এনিমেশন হলো এক প্রকার গ্রাফিক্স। এনিমেশনের সাথে মূলত ভিডিও, অডিও, টেক্সট ইত্যাদির সম্পর্ক রয়েছে। ইহা কয়েক প্রকার হতে পারে যেমন: Traditional Animation, 2D Animation, 3D Animation, Stop Motion, Motion Graphics সহ ইত্যাদি।

এনিমেশন কাকে বলে?

কোনো মেশিন যেমন কম্পিউটার দ্বারা কোনো Visual (ভিজ্যুয়াল) স্থির বস্তুকে গতিশীল করার জন্য Interaction প্রদান করা হয় তখন তাকে এনিমেশন বলা হয়।

এনিমেশন কাজকে চারটি পর্বে ভাগ করা যেতে পারে।
১. বস্তু তৈরি ও সম্পাদনা
২. দৃশ্য তৈরি ও সম্পাদনা
৩. গতিময়তা (১টি বস্তুকে ১টি নির্দিষ্ট পথে ঘুরানাে)।
৪. রেন্ডারিং।

এনিমেশন কেন শিখবো?

বর্তমান সময় অ্যানিমেশনে চাহিদা তুঙ্গে। যেহেতু অ্যানিমেশন একটি চলন্ত প্রতিচ্ছবি  তাই এর দ্বারা যদি বিজ্ঞাপন প্রমোশন করা হয় তবে সেলস এর পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। যে কোন দেশে এনিমেশন ডিজাইনারের চাহিদা অনেক বেশি। বিশেষভাবে অ্যানিমেশন বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যবহার হয় যেমন বাচ্চাদের কার্টুন এর জন্য, বিভিন্ন প্রকার আর্কিটেকচার, টিভি বিজ্ঞাপন, ফিল্ম সহ অনেক কিছুতে।

এনিমেশন ক্লিপের দাম  –

  • যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা – ২,৫০,০০০ – ৪,০০,০০০$
  • কোরিয়া ও তাইওয়ান – ২,৫০,০০০ – ৪,০০,০০০$
  • ফিলিপাইন – ৯০,০০০ – ১,০০,০০০$
  • ভারত– ৬০,০০০$
  • বাংলাদেশ– ৪০,০০০-৪৫,০০০$

বাংলাদেশ অ্যানিমেশন ডিজাইনারের সংখ্যা খুব কম। আমরা ইচ্ছে করলে বিভিন্নভাবে রিসোর্স এর মাধ্যমে  অ্যানিমেশনের জ্ঞান অর্জন করে সব থেকে কম খরচে তৈরি করে বিক্রি করতে পারি। আমাদের উচিত অ্যানিমেশন  সেক্টরে নিজেদেরকে দক্ষ করে তোলা এতে করে আমরা ফ্রিল্যান্সিং আউটসোর্সিং এর দ্বারা বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে সক্ষম হব। আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ইন্ডিয়াতে প্রচুর পরিমাণে অ্যানিমেশন ডিজাইনার রয়েছে এবং তারা সবথেকে বেশি আয় করছে বলে জানা যায়।

৫ ধরনের এনিমেশন

১. Traditional Animation
২. 2D Animation
3. 3D Animation
4. Motion Graphics
5. Stop Motion

১. ট্র্যাডিশনাল এনিমেশন (Traditional Animation)

আমরা এখন ট্রেডিশনাল অ্যানিমেশন সম্পর্কে জানব। ট্রেডিশনাল অ্যানিমেশন কে টুডি এনিমেশন বলা যেতে পারে। ইহা একটি প্রাচীন এনিমেশন পদ্ধতি। প্রাচীন পদ্ধতিতে অ্যানিমেশন তৈরি করতে হলে একজন অ্যানিমেটর কে প্রতিটা ফ্রেমকে হাতে আঁকতে হতো। এনিমেশন তৈরি করার ক্ষেত্রে অ্যানিমেশন ডিজাইনার একটি বিশাল লাইট টেবিল ব্যবহার করতেন, ইহাকে বলা হয় ONION SKINNIG। বর্তমান সময় প্রযুক্তির আধুনিক বিস্তারের কারণে ট্রেডিশনাল এনিমেশন গুলো বিভিন্ন গ্রাফিক্স ট্যাব  অথবা কম্পিউটারের মাধ্যমে খুব সহজে তৈরি করা যাচ্ছে।

২. 2ডি এনিমেশন (2D Animation )

2D Animation খুবই জনপ্রিয়। বিশেষ করে বাচ্চাদের ক্ষেত্রে বাচ্চারা এই এনিমেশন কে খুব ভালোভাবে ইনজয় করতে পারে এবং তাদের কাছে বেশ জনপ্রিয়। টুডি এনিমেশনকে ভেক্টর অ্যানিমেশন বলা হয়ে থাকে।

প্রতি সেকেন্ড অনুযায়ী সর্বনিম্ন বারোটি ফ্রেম ব্যবহার করা হয় টুডি এনিমেশন এর ক্ষেত্রে। 2D এনিমেশন তৈরি করার ক্ষেত্রে সফটওয়্যার দ্বারা যে কোন বস্তু বা ক্যারেক্টারের প্রতিটি অংশ ইচ্ছেমত এনিমেশন করানো যায় অথবা মুভ করানো যায় যারা কিনা নতুন অ্যানিমেশন ক্যারিয়ার তৈরি করতে এই সেক্টরের প্রবেশ করেছে, তারা বেসিক নলেজ এই সমস্ত টুডি এনিমেশন তৈরি করতে পারে

৩. 3ডি এনিমেশন (3D Animation )

এবার আমরা থ্রিডি এনিমেশন সম্পর্কে জানব।  থ্রিডি এনিমেশন কে কম্পিউটার অ্যানিমেশন নামেও অনেকে চেনে।  এই থ্রিডি এনিমেশন  হল বর্তমান সময়ে সব থেকে বেশি ব্যবহৃত পদ্ধতি।  থ্রিডি এনিমেশন এর সাথে পার্থক্য সম্পূর্ণ ভিন্ন রূপে বলা যায়।  এই ক্ষেত্রে দেখা যায় যে প্রতিটি ইলিমেন্টস অর্থাৎ যেকোন ক্যারেক্টারের মুম্বাই থেকে শুরু করে সমস্ত কিছু খুব সুন্দর ভাবে প্রেজেন্ট করা হয়। এই এনিমেশনে সর্বনিম্ন চব্বিশটি ফ্রেম ব্যবহার করা হয়।

একজন এনিমেটর যখন থ্রিডি এনিমেশন নিয়ে কাজ করে তখন তিনি ইউনিভার্স কে যে-কোন দিকেই খুব সহজে নিজের ইচ্ছা অনুযায়ী মুভ করতে পারে । এছাড়া নিজের টেস্ট অনুযায়ী বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন ইলিমেন্ট রেখে অংশগুলোকে কি প্রেমের দ্বারা এনিমেট করতে পারে।

ট্রেডিশনাল এনিমেশনের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র একটি দিক প্রেজেন্ট করা সম্ভব হয়, কিন্তু থ্রিডি এর ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ ভিন্ন।  এই অ্যানিমেশনে উপর-নীচ ডানে-বামে ইচ্ছে অনুযায়ী প্রতিটি অংশ খুব সহজে দেখানো সম্ভব।

অ্যানিমেশন তৈরি করার সফটওয়্যার

অ্যানিমেশন তৈরি করতে চাইলে মার্কেটে বিভিন্ন ধরনের সফটওয়্যার আছে। এনিমেশন ভিডিও তৈরি করা জন্য বিভিন্ন  সফটওয়্যার রয়েছে তার মধ্যে জনপ্রিয় কিছু সফটওয়্যার  এর নাম উল্লেখ করলাম।

  • 3D Max
  • Maya
  • Adobe After Effect
  • Adobe Premiere Pro
  • Flash
  • Pencil

 

অ্যানিমেশন কোর্স কোথায় থেকে করবেন?

আপনি যদি এনিমেশন এর উপরে দক্ষতা অর্জন করতে চান তবে আমাদের দেশে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান রয়েছে।  তবে আমি আপনাকে সাজেস্ট করব এমন প্রতিষ্ঠানে জয়েন করবেন যারা কোয়ালিটি ফুল কনটেন্ট আপনাকে প্রোভাইড করতে পারে এবং আপনিও সহজে বুঝতে পারেন। এছাড়া যেকোনো প্রডাক্টের ক্ষেত্রেই দামের একটা বিষয় রয়েছে,  তাই কম দাম দেখে কোন কোর্সে জয়েন করে নিজের সময় নষ্ট করবেন না বড় এমন প্রতিষ্ঠানে জয়েন করবেন যাদের কোর্স প্রাইস বেশি হলেও যাতে কনটেন্ট ভালো থাকে এবং আপনি যেন খুব তাড়াতাড়ি শিখে ফেলতে পারেন। অবশ্যই যেখানে আপনি জয়েন করবেন তাদের পূর্বের  স্টুডেন্টদের কাজ গুলো  দেখে তাদের সাথে সংযুক্ত হবেন।  অবশ্যই শেখার ক্ষেত্রে কখনোই অর্থ নিয়ে কার্পন্য করবেন না এতে করে আপনার সময় অপচয় হবে এবং আপনি দক্ষতা অর্জন করতে ব্যর্থ হবেন। 

ফ্রিল্যান্সিং কোর্স এক্ষেত্রে অনলাইন এবং অফলাইন দুই ধরনের কোর্স দেশে পাওয়া যাচ্ছে। রাইস এর ক্ষেত্রে ১০ থেকে 20 হাজার টাকার মধ্যে লংটাইম কোর্সগুলো আপনি করতে পারবেন। 

আমি আপনাকে সাজেস্ট করবো আপনি Pixency Academy থেকে কোর্স করুন। কারণ Pixency Academy ক্যারিয়ার গাইডলাইন সহ লাইফটাইম সাপোর্ট দিয়ে থাকবেন সেই সাথে পেমেন্টের ক্ষেত্রে Installment এর সুবিধা তো রয়েছেই। তাছাড়া ওয়ান টু ওয়ান কোর্স ইন্সট্রাক্টর দ্বারা সহজ সলিউশন পেয়ে যাবেন। 

 

We will be happy to hear your oughts

Leave a reply

You cannot copy content of this page

Monster Bangla
Logo
Compare items
  • Total (0)
Compare
Shopping cart