টিকটক ভিডিও ভাইরাল করার উপায়

যারা টিকটক ভিডিও করেন বা করতে চান তাদের খুব কমন কয়েকটি প্রশ্ন হয় এরকম যে, কিভাবে টিকটকে ভাইরাল হওয়া যায়? অতি দ্রুত কিভাবে টিকটক থেকে টাকা ইনকাম করা যায়? কিভাবে টিকটক ভিডিও ভাইরাল করা যায়?

প্রিয় পাঠক আপনারও যদি এই প্রশ্নগুলো জানার প্রয়োজনীয়তা থাকে তবে আমাদের এই কন্টেন্টটি আপনার জন্যে। এই কন্টেন্টে আমরা টিকটকে ভিডিও ভাইরাল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব।

টিকটক(Tiktok)

টিকটক হলো একটি স্বল্প দৈর্ঘ্যের ভিডিও শেয়ারিং প্লাটফর্ম। বর্তমানে ফেইসবুক, ইউটিউবের মতোই টিকটক অনেকটা জনপ্রিয়। এটি প্রায় ১৫০টিরও বেশি দেশে ব্যবহার হচ্ছে। এটির এক্টিভ ইউজারের সংখ্যা এখন প্রায় ১বিলিয়ন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার এনালাইসিস করলে দেখা যায়, সর্বোচ্চ ইউজ হয় ফেইসবুকের। এরপরে যথাক্রমে ইউটিউব, হোয়াটস এপ, ইন্সটাগ্রাম, মেসেঞ্জার, উইচেট এবং টিকটক। অর্থাৎ এটি জনপ্রিয়তার লিস্টে সপ্তম স্থানে অবস্থান করছে। যদিও টিকটকের আগে তৈরি হয়েছে এমন অনেক সোস্যাল মিডিয়া প্লাটফর্মের অবস্থান টিকটকের অনেক নিচে। যেমন উপরে দেয়া তালিকায় টুইটারের অবস্থান  ষোলতম। অথচ এটি টিকটকের অনেক আগের প্লাটফর্ম। পরিসংখ্যানে দেখা যায়,  নন গেইম এপস এর মাঝে টিকটক সবচেয়ে বেশি ডাউনলোড হয়েছে। প্রায় ৩ বিলিয়ন বার এটি ডাউনলোড হয়েছে। সারাবিশ্বের মোট ইন্টারনেট ইউজারের ২০.৮৩শতাংশ টিকটক ব্যবহার করে। 

টিকটকে ভাইরাল হওয়ার উপায়

টিকটক ভিডিও যারা করেন তাদের সবারই একটা ইচ্ছে থাকে টিকটকে ভাইরাল হওয়ার জন্যে। কিন্তু সঠিক পদ্ধতি না জানার কারনে অনেকের এই ইচ্ছে পূরন হয় না। তাদের জন্যে আমাদের দিক থেকে রয়েছে অনেকগুলো দিক নির্দেশনা, যেগুলোর মাধ্যমে একজন টিকটকে তার ভিডিও ভাইরাল করতে পারবে। 

ট্রেন্ডিং সাউন্ডের ব্যবহার

যে মিউজিকগুলো টিকটক ফর ইউ তে ট্রেন্ডিং এ থাকে সেই মিউজিকগুলো ব্যবহার করে ভিডিও তৈরি করলে সেসব ভিডিওকে টিকটক ফর ইউ পেইজে নিয়ে যায়। এতে করে ভিডিওগুলো বেশি বেশি ইউজারের নিকট এবং ভাইরাল হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। তাই সব সময় ট্রেন্ডিং মিউজিক ব্যবহার করে ভিডিও তৈরি করার চেষ্টা করতে হবে। 

সেলিব্রিটিদের সাথে ডুয়েট করা

টিকটকে যারা অলরেডি পপুলারিটি পেয়ে গেছে বা যাদের ভেরিফায়েড একাউন্ট আছে তাদের ভিডিও প্রায়ই ভাইরাল হয়। তাদের ব্যবহার করা সেসব মিউজিকগুলো ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক হিসেবে ব্যবহার করে ভিডিও তৈরি করলে এই ভিডিওটি সেই সেলিব্রিটির ফলোয়ারদের কাছে পৌছানোর সম্ভাবনা থাকে। ফলে ভিডিও দ্রুত ভাইরাল হয়। 

ইউনিক ভিডিও আপলোড করুন

সব সময় গতানুগতিক ভিডিও আপলোড না করে ইউনিক টাইপের ভিডিও আপলোড করার চেষ্টা করুন, যাতে ইউজার আপনার ভিডিও দেখে ভাবতে পারে যে তাঁরা এ ধরনের ভিডিও আগে টিকটকে দেখেনি। অন্যের আইডিয়া বা ভিডিও হুবহু কপি না করাই ভালো। ইউনিক ভিডিও হলে এর ডুয়েটকারীর সংখ্যা বেড়ে যায়। ফলে ভিডিও দ্রুত ভাইরাল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। আরেকটি বিষয় হচ্ছে, একটি নির্দিষ্ট নিশ নিয়ে সব সময় কাজ করা। ভাইরাল মিউজিক ও ভাইরাল ভিডিওর পাশাপাশি একটি সুনির্দিষ্ট নিশ এর উপর কাজ করলে দ্রুত অগ্রগতি পাওয়া যায়। তবে একটি নিশে আবদ্ধ থাকার কথা বলছি না। আপনি একাদারে অনেকগুলো নিয়েই কাজ করতে পারেন। তবে যেকোনো একটি ইন্টারেস্টিং নিশে অধিক ফোকাস করতে পারেন। 

ক্লিয়ার ভিডিও আপলোড করুন

ভিডিও ভাইরাল না হওয়ার অন্যতম কারন হলো ক্লিয়ার ভিডিও না হওয়া। এখন বেশির ভাগ টিকটকার অনেক হাই কোয়ালিটির ডিভাইস ব্যবহার করে ভিডিও তৈরি করে। যারা ইউজার আছেন তারাও ভালো কোয়ালিটির ভিডিও দেখে অভ্যস্ত। তাই আপনার ভিভিও যদি হাই কোয়ালিটির না হয় তবে সেটি ইউজার দেখবেনা এটা নিশ্চিত। আর এতে টিকটক আপনার ভিডিওর রিচ বন্ধ করে দেবে। তাই সর্বদা ক্লিয়ার ও হাই কোয়ালিটির ভিডিও তৈরি করার চেষ্টা করতে হবে। 

টিকটক ভিডিওর দৈর্ঘ্য কত হবে

টিকটক ভিডিও কত দৈর্ঘ্যের হওয়া উচিৎ? এটি খুব গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। আপনার তৈরিকৃত ভিডিও যারা দেখবেন তাঁরা যদি ঐ ভিডিওর ৮০% দেখে থাকেন তাহলে ঐ ভিডিও বেশি বেশি রিচ পাবে। আর যদি আপনার ভিডিও ইউজারগন এর ১০-২০% দেখে স্কিপ করে তাহলে টিকটক ধরে নেয় আপনার ভিডিও পর্যাপ্ত রুচিসসম্মত নয়। এ ধরনের ভিডিও রিচ হারিয়ে ফেলে। তাই যতটা সম্ভব ভিডিও ক্লিপ ছোট রাখার চেষ্টা করতে হবে। তবে ভিডিও অবশ্যই আকর্ষনীয় হতে হবে। আপনার ১মিনিটের ভিডিও কেউ ৪৮সেকেন্ড দেখলো না কিন্তু ১০ সেকেন্ডের ভিডিও ৮সেকেন্ড দেখলো তাহলে ১০সেকেন্ডের ভিডিওটি-ই আপনাকে বেশি রিচ দিবে। টিকটক ভিডিওর দৈর্ঘ্যের তুলনা করে না, এভারেজ ওয়াচ টাইমের ভিত্তিতে ভিডিওর রিচ দেয়। তাই আপনাকে চেষ্টা করতে হবে ভিডিওর ওয়াচ টাইম বাড়ানো। তবে যদি আপনি কোনো গল্প বলেন এবং তার মধ্যে চমতকার টুইষ্ট থাকে তবে এ ধরনের গল্পের ভিডিওর ক্ষেত্রে ভিডিও কিছুটা দীর্ঘায়িত করা যেতে পারে। 

নিয়মিত ভিডিও আপলোড করা

টিকটকাররা অনেকেই একটা ভুল করে যেটা হলো একদিনে অনেকগুলো ভিডিও আপলোড করে আবার কয়েকদিন আর কোনো ভিডিও আপলোড করে না। এতে ভিডিওর রিচ কমে যায়। আপনার ভিডিও নিয়মিত আপলোড করার উপর নির্ভর করে টিকটক আপনার ভিডিওকে কতটা রিচ দিবে। আপনি যদি প্রতিদিন একটি করে ভিডিও দিয়ে যান, তাহলে টিকটক আপনাকে অধিক সক্রিয় ধরে নিয়ে আপনার পোস্টকে বেশি বেশি ইউজারের হোমপেইজে দেখাবে। এতে আপনার ভিডিও সহজে ভাইরাল হওয়ার পসিবিলিটি থাকে। দৈনিক ২-৩টা ভিডিও আপলোড করলে আপনার ভাইরাল হওয়া সহজ হবে। 

টাইটেল এবং হ্যাশট্যাগ ব্যবহার

টিকটকে ভিডিও আপলোড করার আগে অবশ্যই আপনাকে দেখতে হবে আপনার ভিডিওর টাইটেল ঠিক আছে কিনা। টাইটেলে হ্যাশট্যাগ যেমন #Bd_Tiktok, #For_you ইত্যাদি ব্যবহার করা। এছাড়া আপনার ভিডিওর টপিক অনুযায়ী হ্যাশ ট্যাগ দিন। টাইটেলে সব সময় ট্রেন্ডিং হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করার চেষ্টা করতে হবে। এতে ভিডিও ভাইরাল হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেরে যায়। 

পছন্দের জিনিস, এডভাইস ও টিপস শেয়ার করুন

টিকটক বিনোদন নেয়ার জন্যে উত্তম একটি প্লাটফর্ম। অনেকেই আছেন টিকটক থেকে কোনো কিছু শিখতে পছন্দ করেন। তাই যাদের কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ে দক্ষতা আছে তাঁরা সেই দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে মজার ভিডিও তৈরি করতে পারেন, যাতে মানুষ একইসাথে আনন্দ পায় আবার কিছু শিখতেও পারে। এরকম অনেকগুলো চ্যানেল আছে যারা শুধু এরকম ভিডিও তৈরি করেই টিকটকে ভালো অবস্থান তৈরি করতে পেরেছে। 

কল টু একশন রাখুন 

কল টু একশন খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। এটি একইসাথে আপনাকে ভাইরাল করার পাশাপাশি ফলোয়ার সংখ্যা বৃদ্ধি করবে। আপনি একটি ভিডিওতে ৫ মিলিয়ন ভিউ পেলেন কিন্ত ফলোয়ার পেলেন মাত্র ২০০০ এতে খুব একটা লাভ নেই। যখন টিকটক একটি নির্দিষ্ট ভিডিওকে অধিক লাইক, কমেন্ট ও ফলো করতে দেখে, তখন তাঁরা সেটিকে বেশি বেশি লোকের কাছে পাঠানোর চেষ্টা করে। সেজন্যে ভিডিওর ক্যাপশনে কিংবা ভিডিওর শেষে “Like for next part” “follow for more”  “whats your reaction” এর মতো কল টু একশন বাটন এড করা অত্যন্ত জরুরী। 

র‍্যান্ডম কমেন্টের সুযোগ দিন

মানুষ সোস্যাল মিডিয়ায় এলোমেলো বিষয়ের উপরে কমেন্ট করতে পছন্দ করেন। কোনো একটা বিষয়ের সামান্য বিবরন আছে যেটি ভিডিওর মূল ফোকাস নয় এমন বিষয়ে মানুষ তর্কে জড়াতে কমেন্ট করে। আপনার টার্গেট হবে যাতে মানুষ বেশি বেশি কমেন্ট করে সেই সুযোগ রাখা। এতে টিকটক আপনার ভিডিওকে বেশি মানুষের কাছে পৌছে দেবে। 

কিছু প্রশ্ন অধরা রাখুন

কমেন্ট পাওয়ার জন্যে এ ধরনের যেকোনো পোস্ট খুবই কাজে দেয়। Tik Tok এ ধরনের ভিডিও আপনাকে ভাইরাল হতে সাহায্য করবে। আপনাকে যা করতে হবে তা হলো, আপনি আপনার ভিডিওর মাধ্যমে এমন প্রশ্ন তৈরি করবেন যার উত্তর ভিডিওতে নেই কিন্তু মানুষের মনে এ বিষয়ে প্রশ্ন তৈরি হবে। তখন মানুষ এসব বিষয়ে র‍্যান্ডম কমেন্ট করতে থাকে যা আপনার ভাইরাল হবার ক্ষেত্রে কাজে দেয়। 

ভিডিওতে এমন অংশ রাখুন যা পুনরায় দেখতে হয়

ধরুন আপনি একটি এডভাইস বিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ একটি ভিডিও তৈরি করলেন যেখানে প্রয়োজনীয় একটি টেক্সট রয়েছে। এই টেক্সট এর সাথে ভিডিওর একটি গভীর সম্পর্ক আছে। এখন যদি এমন হয় যে টেক্সট টি খুব দ্রুত স্লাইড করে চলে যায় তখন ইউজার ভিডিও পস করে কিংবা পুনরায় ভিডিও প্রথম থেকে দেখে সেই টেক্সট টি দেখতে চাইবে। 

FYP ভিডিও দেখার জন্যে দৈনিক কিছু সময় ব্যয় করা

নিয়মিত FYP ভিডিও দেখলে আপনি নতুন কন্টেন্ট এর ধারনা পাবেন এবং রানিং ট্রেন্ড এর সাথে সামঞ্জস্য রেখে ভিডিও তৈরি করতে পারবেন। দ্রুত সময়ে টিকটকে পপুলার হওয়ার জন্যে এটি খুব গুরুত্বপূর্ণ।

শেষ কথা

টিকটক নিয়ে অনেক আলোচনা সমালোচনা আছে এ কথা সত্যি। কিন্তু বর্তমানে এটি বিনোদনের পাশাপাশি আর্নিং ও মার্কেটিং এর জন্যেও একটি বড় প্লাটফর্ম। তাই যুগের সাথে তাল মিলাতে হলে এই প্লাটফর্ম সম্পর্কে অবগত থাকারও প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। সবাইকে আমাদের পরবর্তী আর্টিকেল পড়ার আমন্ত্রন জানিয়ে শেষ করছি। সবাই ভালো থাকবেন। 

4728dbbc5c6763f37c33f5ebb100ad9e?s=150&d=mm&r=g

Tanvir Brain

 themarketerbd@gmail.com  https://www.monsterbangla.com

We will be happy to hear your oughts

Leave a reply

Monster Bangla
Logo
Compare items
  • Total (0)
Compare
Shopping cart