মোটা হওয়ার সহজ উপায় জেনে নিন

শরীরের অতিরিক্ত ওজন যেমন উপকারি নয় আবার অতিরিক্ত চিকন স্বাস্থহীন হলেও তা শরীরের পক্ষে ভালো নয়। রোগা পাতলা শরীরের জন্যে বিভিন্ন জায়গায় বিড়ম্বনায় পড়ার উদাহরন অনেক। অপুষ্টিতে ভুগছে, শুটকি, ফু দিলে উড়ে যাবে এধরনের অনেক কথা শুনতে হয়, যা যেকারও জন্যেই লজ্জার। তাই যারা চিকন শরীরের অধিকারী তাদের খুব কমন কয়েকটি প্রশ্ন হলো এমন মোটা হওয়ার সহজ উপায় কি? কিভাবে মোটা হওয়া যায় কিংবা মোটা হওয়ার ঔষধের নাম কি?।

আপনার নিজেরও যদি এ ধরনের প্রশ্ন থাকে তবে আজকের আর্টিকেলটির মাধ্যমে আপনার সব প্রশ্নের উত্তর পেয়ে যাবেন এবং সাথে থাকবে স্বাস্থকর উপায়ে মোটা হওয়ার পরিপূর্ণ গাইডলাইন।

আপনার শরীরের ওজন বাড়াতে হবে কিনা

অবশ্যই মোটা হবেন কিন্তু তার আগে জেনে নিন আপনার শরীরের ওজন ঠিক আছে কিনা। এমন অনেকেই আছেন যারা মোটা হতে চান অথচ তাদের শরীরের ওজন স্বাস্থকর অবস্থায় আছে,অর্থাৎ তাদের শরীরের ওজন এর বেশী হওয়ার প্রয়োজন নেই। এখন প্রশ্নঃ কিভাবে বুঝবো আমার শরীরের ওজন ঠিক আছে কিনা? এর উত্তর হলো- স্বাস্থ্যবিশেষজ্ঞদের এ বিষয়ে একটি সাধারন সূত্র রয়েছে যেটিকে আমরা BMI(Body Mess Index) বলে থাকি। এটি হলো উচ্চতার সাথে ওজনের ভারসাম্যের মানদন্ড। 

বিএমআই =  শরীরের ওজন(কেজি) / শরীরের উচ্চতা^2(মিটার)

অর্থাৎ আপনাকে আপনার শরীরের ওজনকে উচ্চতার বর্গ দিয়ে ভাগ করতে হবে। এর মানের উপর নির্ভর করে, আপনার শরীরের ওজন বাড়ানো প্রয়োজন আছে কিনা।  বিএমআই এর মান যদি ১৮.৫-২৪.৫ এর মধ্যে থাকে তাহলে আপনার শরীরের ওজন বাড়ানোর প্রয়োজন নেই। কেবল যদি এই মান ১৮ এর নিচে আসে তবেই আপনাকে বিভিন্ন স্বাস্থকর উপায়ে শরীরের ওজন বৃদ্ধি করতে হবে। 

মোটা হওয়ার খাদ্য তালিকা

আপনি চাইলেই নিজের স্বাস্থ্য বৃদ্ধি করতে পারেন। এটি আপনি স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে কিংবা বিভিন্ন স্ট্রেরয়েড এর মতো ক্ষতিকর ঔষধ সেবনের মাধ্যমেও করতে পারেন। তবে কোনো  পুষ্টিবিশেষজ্ঞের পরামর্শে শরীরের ওজন বৃদ্ধি করা হলো সর্বোত্তম উপায়। এখানে আমরা পুষ্টিবিদদের অনেকগুলো পরামর্শ তুলে ধরবো যা আপনাকে প্রাকৃতিক উপায়ে স্বাস্থ্যবান করতে সাহায্য করবে। 

আমিষযুক্ত খাবার খান

শরীরের ওজন বাড়াতে চাইলে প্রোটিন বা আমিষের বিকল্প নেই। কারন এটি শরীরের ওজন বৃদ্ধিতে অনেক বেশি ভূমিকা রাখে। যারা স্বাস্থ্যহীনতায় ভুগছেন তাদের অনেকেই দৈনন্দিন খাবারে ক্যালরি জাতীয় খাবার পরিমানের চেয়ে বেশি গ্রহন করলেও প্রোটিন পরিমিত পরিমানে গ্রহন করে না। এতে ক্যালরি ফ্যাটে এ রুপান্তরিত হতে পারে না, কারন প্রোটিন ক্যালরিকে ফ্যাটে পরিনত করতে সাহায্য করে। তাই মোটা হতে চাইলে উচ্চ আমিষ আছে এ জাতীয় খাবার বেশি খেতে হবে। ড্রাই ফ্রুটস এ প্রচুর ক্যালরি, প্রোটিন ও ফ্যাট আছে যা ১ মাস নিয়মিত সেবনে শরীরের ওজন বাড়ে। এছাড়া মাছ, মাংস, দুধ ও ডিম আমিষের ভালো উৎস।

বেশি ক্যালরি গ্রহন করুন

ওজন কমানোর জন্যে বিশেষজ্ঞরা যেমন কম ক্যালরি গ্রহনের পরামর্শ দেন তেমনি ওজন বাড়ানোর ক্ষেত্রে পরামর্শ বেশি ক্যালরি গ্রহন করা। সাধারনত প্রাপ্তবয়স্ক নারীদের দৈনিক ১৬০০-২৪০০ ক্যালরি এবং পুরুষদের  ২০০০-৩০০০ক্যালরি গ্রহন করতে হয়। তবে যারা ওজন বাড়াতে চান, তারা এ পরিমানের চেয়ে ৫০০-৬০০ক্যালরি বেশি গ্রহন করবেন, এতে এক সপ্তাহের মধ্যে শরীরের ওজনে পার্থক্য নিজেই বুঝতে পারবেন। 

বেশি শর্করা গ্রহন করুন

ওজন বাড়াতে বিশেষজ্ঞরা বেশি কার্বোহাইড্রেট গ্রহনের পরামর্শ দিয়ে থাকেন। কার্বোহাইড্রেট শরীরের ওজন বাড়াতে সাহায্য করে। ভাত ও রুটি এ দুটি খাবারে প্রচুর শর্করা থাকে। তাই এ দুটি খাবার বেশি বেশি গ্রহন করুন। 

বেশি বেশি শাক সবজি ও ফলমূল গ্রহন করুন

কিছু কিছু শাক সবজি ওজন কমানোর জন্যে নির্দেশিত আবার কিছু কিছু শাক সবজি ওজন বাড়াতে খাওয়া হয়। মিষ্টি কুমড়া, সকল ধরনের আলু, আম, কাঠাল, কলা ও লাল শাক ইত্যাদিতে উচ্চ পরিমানে ক্যালরি থাকে।

ফার্স্টফুড গ্রহন করুন

আপনি যদি ফার্স্টফুড পছন্দ করে থাকেন, তাহলে এটি আপনার জন্যে সুসংসবাদ কারন ফার্স্টফুড দ্রুত শরীরের ওজন বৃদ্ধি করে। দেহের ভারসাম্য রক্ষায় ও শরীরের ওজন বৃদ্ধি করার অন্যতম উপাদান চর্বি। আর এ চর্বি প্রচুর পরিমানে পাওয়া যায় ফার্স্ট ফুড থেকে। চর্বিকে বলা শরীরের প্রাকৃতিক বালিশ। দেহের অভ্যন্তরের বিভিন্ন অঙ্গ প্রত্যঙ্গকে প্রয়োজনীয় সুরক্ষা ও আরামদায়কভাবে আগলে রাখে চর্বি। শরীরের জন্যে উপকারি চর্বি  শরীরের ওজন ও উজ্জ্বলতা দুইটাই বাড়ায়। তাই আপনি যদি ওজন বাড়াতে চান তাহলে ফার্স্টফুড বেশি গ্রহন করতে পারেন। তবে নিয়মিত ফার্স্টফুড সেবনের ফলে স্বল্পমেয়াদী ও দীর্ঘমেয়াদী মারাত্মক স্বাস্থ্য সমস্যা তৈরি হতে পারে। 

বারবার খাবার গ্রহন

শরীরের ওজন বাড়াতে চেষ্টা করছেন এমন অবস্থায় অবশ্যই বারবার খাবার খেতে হবে। প্রতি ২ ঘন্টা পর পর বেশি বেশি খাবার গ্রহন করতে হবে। এক্ষেত্রে দুধ, দই, ছানা ও বিভিন্ন ফল গ্রহন করতে পারেন। এতে একইসাথে পুষ্টির অভাব দূর হওয়ার পাশাপাশি শরীরের ওজন বাড়বে। 

ঘুমানোর পূর্বে দুধ খান

দুধ প্রোটিনের অন্যতম উৎস। এর প্রোটিন উপাদান শরীরের খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে ও ভালো চর্বির পরিমান বাড়ায়। দুধ খেলে ভালো ঘুম হয় এবং পরবর্তী দিনে ভালো শক্তি থাকে শরীরে। দুধ ত্বকেরও উজ্জ্বলতা বাড়ায়। তবে ওজন বাড়ানোর অংশ হিসেবে দুধ খেতে গেলে সাথে মধু মিশিয়ে খেতে পারেন। এতে ফলাফল কিছুটা দ্রুত পাবেন।

 নিয়মিত ছোলা খান

ছোলাতে অনেক ফ্যাট থাকে যা শরীরের ওজন বৃদ্ধিতে সহায়ক। ছোলার ফ্যাট হলো পলিআনস্যাচুরেটেড ফ্যাট যা শরীরের কোনো ক্ষতি করে না। বরং শরীরের ওজন বৃদ্ধি, শক্তি উতপাদন ও কোষ্ঠ্যকাঠিন্যের সমস্যা দূর করে। 

নিয়মিত ডিম খান

ডিম শরীরের ওজন বাড়াতে অনেক বেশি কাজে দেয়। তাই সকল পুষ্টিবিদ শরীরের ওজন বৃদ্ধি করার জন্যে ডিম খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। তবে অনেকে ধারনা করেন, ডিমের কুসুম শরীরের জন্যে ক্ষতিকর। এটি একেবারেই সত্য নয়। বরং ডিমের কুসুমে থাকা চর্বি হার্টের উপকার করে। 

ওজন বাড়াতে বাদাম ও কিসমিস খান

বাদাম ও কিসমিস দুটোই শরীরের ওজন  বাড়াতে সাহায্য করে। রাতে ঘুমানোর পূর্বে এক গ্লাস পানিতে কিসমিস ভিজিয়ে রাখুন। সকালে উঠে তা খান। ভরাপেটে নিয়মিত বাদাম খাওয়ার চেষ্টা করুন। বাদাম অত্যন্ত পুষ্টিকর। 

মাংস ও কলিজা খান

মাংস ও কলিজা প্রোটিনের ভালো উৎস। দুটোই শরীরের ওজন দ্রুত বৃদ্ধি করে। 

মোটা হওয়ার জন্যে আরো যেসব নিয়ম পালন করতে হবে

শুধু খাবার গ্রহনের মাধ্যমে স্বাস্থ্যকর উপায়ে পরিপূর্ণ স্বাস্থ্যবান হওয়া সম্ভব নয়। তাই আপনাকে খাদ্য তালিকার সাথে সামঞ্জস্য রেখে অন্যান্য নিয়ম কানুনও মানতে হবে। এ বিষয়ে নিচে বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে।

নিয়মিত ব্যায়াম করুন

অনেকের ধারনা কেবল ওজন কমানোর সময়ই ব্যায়াম করতে হয়, ওজন বাড়ানোর সময় ব্যায়াম করলে ওজন কমে যায়, এমন ধারনা একেবারেই ভুল। ব্যায়াম বা শরীরচর্চা,  সুস্থ থাকা ও শরীরের ফিটনেসের জন্যে অপরিহার্য্য। আপনি ওজন বাড়ান কিংবা কমান দুই ক্ষেত্রেই ব্যায়াম করতেই হবে। শরীর চর্চার মাধ্যমে শরীরের অনেক সমস্যা দূর হয়ে যায়। এই সমস্যাগুলোর কারনেই অনেকের শারীরিক উন্নতি হয় না। অলসতার কারনে ওজন বাড়ে আবার অনেকের ক্ষেত্রে অলসতার কারনে ওজন কমেও যায়। তাই যারা রোগা পাতলা শরীরের অধিকারী তাদের নিয়মিত ব্যায়াম করতে হবে। এতে শরীর সুস্থ থাকে ও পেশী সবল হয়। তবে ব্যায়ামের মধ্যে অনেক প্রকারভেদ রয়েছে, আপনি যদি ওজন বাড়ানোর রুটিনে থেকে থাকেন তবে কোন কোন ব্যায়াম এই অবস্থায় প্রযোজ্য কেবল সেসব ব্যায়াম-ই করুন। এতে শরীরের সুষম উন্নতি হবে।

বদঅভ্যাস ছাড়ুন

অনেকেরই সিগারেট, ড্রিংক্স বা অন্যান্য মাদক গ্রহনের বদ অভ্যাস রয়েছে। এসবে আসক্ত অবস্থায় কোনোভাবেই শরীরের ওজন বৃদ্ধি সম্ভব নয়। এসবের কারনে শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যহত হওয়ার পাশাপাশি শরীর নানান ধরনের মারাত্মক রোগে আক্রান্ত হয়। আর প্রায় সকল মারাত্মক রোগেই স্বাস্থহানী ঘটে। তাই শরীর মোটা করতে চাইলে অবশ্যই সকল নেশা ছাড়তে হবে। এছাড়া অনেকেরই দীর্ঘসময় ধরে মোবাইল বা কপিউটারে বসে থাকার অভ্যাস রয়েছে, আবার অনেকেই বিভিন্ন অশালীন ভিডিও দেখে শরীরের ক্ষতি করে । এসব কিছুতে শরীরের ওজন বাড়ার পরিবর্তে কমে যায়। 

চিন্তামুক্ত থাকা ও পর্যাপ্ত ঘুমানো

বিশেষজ্ঞরা বিভিন্ন রোগ ও বদঅভ্যাসকে নিরব ঘাতক হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। তার মধ্যে দুশ্চিন্তা একটি। এটির কারনে আপনার শরীরে নানান ধরনের সমস্যা তৈরি হতে পারে। জীবন যাপনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ঘুম। সঠিক সময়ে ও পর্যাপ্ত ঘুমাতে হবে, যদি ওজন বাড়াতে চান। দৈনিক কমপক্ষে ৮-৯ ঘন্টা করে ঘুমাতে হবে। ঘুমানোর ক্ষেত্রে “আর্লি টু বেড এন্ড আর্লি টু রাইজ” নীতি অবলম্বন করুন। 

মোটা হওয়ার ভুল পদ্ধতি

অনেকে মনে করেন, মোটা হলেই হয় সেটা যেকোনোভাবেই হলেই হলো। সেজন্যে ইন্টারনেটে কিছু প্রশ্ন সার্চ করে যেমনঃ ৭ দিনে মোটা হওয়ার ঔষধ, মোটা হওয়ার ট্যাবলেট, মোটা হওয়ার প্রাকৃতিক ঔষধ, মোটা হওয়ার সবচেয়ে ভালো ঔষধ ইত্যাদি। এছাড়া আরও অদ্ভুত ধরনের জিজ্ঞাসার মধ্যে রয়েছেঃ গাল ফুলানোর উপায়, মোটা হওয়ার ট্যাবলেট এর নাম, মোটা হওয়ার ঔষধের নাম, আমি মোটা হবো কিভাবে। যারা মূলত এসব প্রশ্ন ইন্টারনেটে খোজে তারাই শারীরিক উন্নতির ভূল পদ্ধতি অনুসরন করে। বাজারে পাওয়া বিভিন্ন হারবাল ঔষধ ও মোটা হওয়ার বিভিন্ন সিরাপ, ট্যাবলেট এগুলোর বৈজ্ঞানিক কোনো ভিত্তি নেই। ক্ষেত্র বিশেষ এগুলো প্রানঘাতী পাশ্বপ্রতিক্রিয়া দেখায়। তাই এ ধরনের পদ্ধতি থেকে দূরে থাকতে হবে। মনে রাখতে হবে গুগল বা ইন্টারনেট খুজে নিজে নিজে কোনো ধরনের ডাক্তারি চর্চা করা উচিত নয়। এটি মৃত্যুও ডেকে নিয়ে আসতে পারে। 

সব কিছু করছি কিন্তু মোটা হচ্ছি না

অনেকে মোটা হওয়ার জন্যে সব নিয়ম কানুন ও ডায়েট চার্ট ফলো করার পরেও মোটা হয় না। এর একটা কারন হতে পারে শরীরে ঘাফটি মেরে বসে থাকা কোনো মারাত্মক রোগ যেটি সম্পর্কে আপনি অবগত নয়। এ বিষয়ে নিশ্চিত হওয়ার জন্যে একজন অভিজ্ঞ মেডিসিন ডাক্তারের অধীনে হেলথ চেক আপ করে নিতে পারেন। এছাড়াও অনেকেই জেনেটিক কারনে হেলদি নয়। 

শেষকথা

মোটা হতে চাওয়া দোষের কিছু নয় তবে সেটা হতে হবে সঠিক উপায়ে। যার তার কথা শুনে বা ফার্মেসী থেকে ইচ্ছেমতো ঔষধ খেলে হতে পারে ভয়াবহ স্বাস্থ্যগত সমস্যা। তাই এ বিষয়ে একজন ডায়েটিশিয়ান বা নিউট্রিশনিস্ট এর পরামর্শ মেনে চলা হলো সবচেয়ে ভালো পন্থা। 

4728dbbc5c6763f37c33f5ebb100ad9e?s=150&d=mm&r=g

Tanvir Brain

 themarketerbd@gmail.com  https://www.monsterbangla.com

We will be happy to hear your oughts

Leave a reply

Monster Bangla
Logo
Compare items
  • Total (0)
Compare
Shopping cart