সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং: দ্য আলটিমেট গাইড

মার্কেটিং করার যতগুলো ক্ষেত্র আছে তার মধ্যে ব্যবসায়ীরা এখন সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয় সোস্যাল মিডিয়াকে। বলতে পারেন সোস্যাল মিডিয়া মার্কেটিং এখন মার্কেটিং জগতের শীর্ষে অবস্থান করছে। অনেক ব্রান্ড সোস্যাল মিডিয়ায় তাদের জনপ্রিয়তা তৈরি করার লক্ষ্যে কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছে, এর কারন এই প্লাটফর্মে একবার পপুলারিটি তৈরি হয়ে গেলে ব্যবসায় সফলতা সুনিশ্চিত। কিভাবে সোস্যাল মিডিয়া মার্কেটিং করবেন? কিভাবে কি প্লানিং হবে আজকের আর্টিকেলে আমরা সোস্যাল মিডিয়া মার্কেটিং এর বিস্তারিত তুলে ধরব।

Table of Contents

সোস্যাল মিডিয়া মার্কেটিং কি?

সহজ কথায় সোস্যাল মিডিয়া মার্কেটিং হলো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম যেমন ফেইসবুক, ইন্সটাগ্রাম, টিকটক, টুইটার, লিংদিন, ইউটিউবে ইত্যাদি প্লাটফর্মগুলোতে আপনার পণ্য বা সেবার প্রচার প্রচারনা চালানো এবং আপনার টার্গেট অডিয়েন্স খুজে নিজে নিয়ে তাদের সাথে রিলেশন তৈরি করা। সোস্যাল মিডিয়া প্লাটফর্মগুলো নিত্য নতুন কন্টেন্ট নিয়ে আসে। আপনাকে এই কন্টেন্ট এনালাইজ করতে হবে এবং আপনার গ্রাহকদের নিকট তা সহজভাবে উপস্থাপন করতে হবে। এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনায় যাওয়ার আগে সংক্ষেপে জেনে নিবো সোস্যাল মিডিয়া প্লাটফর্মগুলো সম্পর্কে।

ড্যাটা ড্রিভেন ডিজিটাল মার্কেটিং শিখুন!

সোস্যাল মিডিয়া প্লাটফর্ম

ফেইসবুক

ফেইসবুক সবচেয়ে বড় এবং সুপ্রতিষ্ঠিত সোস্যাল মিডিয়া প্লাটফর্ম । ২০০৪ সাল থেকে এটি প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকেই এটি ব্যবসার প্রচার বা বিজ্ঞাপনের জন্যে বিখ্যাত হয়ে আছে। B2C পলিসির জন্যে এটা সবচেয়ে বেশি উপযুক্ত প্লাটফর্ম। এতে অর্থ খরচ করে যেমন বিজনেস করা যায় তেমনি খরচ না করেও অর্গানিকভাবে বিজনেস করার সুযোগ রয়েছে। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে ফেইসবুকের প্রায় ১.৯ বিলিয়ন এক্টিভ ইউজার রয়েছে।

টিকটক

ইউটিউবের পরে এই প্লাটফর্মটি ভিডিও কটেন্ট এর জন্যে  সবচেয়ে জনপ্রিয়। ২০২০সালে এটি জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিলো । টিকটকের প্রায় ১ বিলিয়নের মতো ইউজার রয়েছে। ছোট ছোট ও ক্রিয়েটিভ ভিডিওর মাধ্যমে ব্রান্ড ভেল্যু ও নিজের একটি কমিউনিটি তৈরি করা যায় টিকটকে যা আপনার ব্যবসাকে সফলতা এনে দিতে সাহায্য করে। নিজ ব্রান্ডের একটি কমিউনিটি তৈরি করার জন্যে এটি একটি অনন্য প্লাটফর্ম।

ইনস্টাগ্রাম

ইন্সটাগ্রাম বর্তমানে খুবই জনপ্রিয় একটি প্লাটফর্ম। এর কন্টেন্টগুলো খুবই আকর্ষনীয় হওয়ায় এটি বিশ্বজুড়ে বেশ নাম কুড়িয়েছে। যদিও এর প্রতিষ্ঠাকাল খুব বেশি দিনের নয় তবুও এই মাধ্যমটি মার্কেটিং এর জন্যে বেশ উপযোগী কারন হিসেবে রয়েছে ইনস্টাগ্রাম এর এডভান্স ই- কমার্স টুল। যেটি ব্যবসায়ীদের জন্যে খুবই প্রয়োজনীয়। বর্তমানে ১ বিলিয়ন মাসিক এক্টিভ ইউজার রয়েছে এই মাধ্যমটির। 

টুইটার

ইনস্টাগ্রাম যেখানে ভিজ্যুয়াল কন্টেন্টে ফোকাস করে, টুইটার সেখানে টেক্সটে ফোকাস করে। জনসংযোগ, গ্রাহক সেবা, কমিউনিটি বিল্ডিং এর জন্যে টুইটার বেশ বিখ্যাত। বর্তমানে টুইটারের বেশ কয়েকটি টুলস রয়েছে যেমন অডিও টুল টুইটার স্পেসেস, কমিউনিটি বিল্ডিং টুল টুইটার কমিউনিটি । যেখানে এক সময় শুধু টুইটারে টেক্সট করা যেত এখন এই টুলগুলো দিয়ে আরো বেশি সেবা পাওয়া যাচ্ছে । দৈনিক প্রায় ২১১ মিলিয়ন সক্রিয় ইউজার রয়েছে টুইটারের। এর মাধ্যমে B2B এবং B2C বিজনেস করা যায়। 

লিঙ্কদিন

লিঙ্কদিনকে বলা যায় ফেইসবুকের পেশাদার সহোদর। অর্থাৎ ফেইসবুকে যেখানে একাধারে অনেক কন্টেন্ট দেয়া যায়, সেখানে লিঙ্কদিন কেবল প্রফেশনাল বিষয়বস্তু নিয়ে থাকে। এটাকে বলা যাবে পেশাজীবীদের নেটওয়ার্ক যেখানে তারা নিজেদের বিভিন্ন বিষয় শেয়ারের পাশাপাশি একে অপরের সাথে ইন্টারেক্ট করতে পারে ও নতুন নতুন  জবের সুযোগ থাকে। লিংকিদিনের ৭৭৪ মিলিয়ন ইউজার রয়েছে। B2B রিলেশনসীপ, বিজনেস ডেভেলপমেন্ট, সোস্যাল সেলিং এর জন্যে লিংদিন সবচেয়ে উপযোগী মাধ্যম।

ইউটিউব

HootSuite এর মতে, ইউটিউব বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বাধিক ভিজিট করা ওয়েবসাইট। এছাড়াও, মার্কেটারগন এটিকে নিজস্ব কমিউনিটি  তৈরির সেরা প্ল্যাটফর্মে হিসেবে আখ্যা দেয়। ইউটিউব এমন একটি ওয়েবসাইট যেখানে ইউজার সবচেয়ে বেশি সময় ব্যয় করে কারন এর কন্টেন্টগুলো বেশ বড়। এডুকেশনাল কণ্টেন্ট তৈরির জন্যে এটি সেরা প্লাটফর্ম। ব্রান্ড সচেতনতা, দীর্ঘ কন্টেন্ট এর প্রচারনার জন্যে এই প্লাটফর্ম বেস্ট। এতে  B2C এবং B2B বিজনেস করা যায়। বিশ্বব্যাপী ৩১৫ মিলিয়নেরও বেশি দৈনিক সক্রিয় ব্যবহারকারী রয়েছে।

পিন্টারেস্ট

পিন্টারেস্ট একটি ভিজ্যুয়াল স্টোরিবোর্ডের মতো যা ইউজারদের ফ্যাশন থেকে শুরু করে বাড়ির সাজসজ্জার সবকিছুর জন্য অনুপ্রেরণা দেয়। ৮৫% পিন্টারেস্ট ব্যবহারকারী বলেছেন যে Pinterest হল সেই প্লাটফর্ম যেখানে তারা একটি নতুন প্রকল্প শুরু করতে যায় ৷ এছাড়াও, এই প্ল্যাটফর্মে প্রতি সপ্তাহেই নতুন ব্র্যান্ড বা পণ্য পাওয়া যায় । ভিজুয়াল এডভার্টাইজ ও অনুপ্রেরনা দেওয়ার জন্যে এই প্লাটফর্ম বেস্ট। ৪৪৪ মাসিক এক্টিভ ইউজার রয়েছে পিন্টারেস্টের।

ড্যাটা ড্রিভেন ডিজিটাল মার্কেটিং শিখুন!

সোস্যাল মিডিয়া মার্কেটিং এর উপকারিতা

সোস্যাল মিডিয়া মার্কেটিং এর গুরুত্ব বোঝার জন্যে আমি নিজের দিক থেকে একটা কথা শেয়ার করি তা হলোঃ আমি প্রায় প্রতিদিনই একটা নির্দিষ্ট সময় ফেইসবুকে কাটাই, সেখানে আমি অনেকে বিজ্ঞাপন দেখতে পাই। আমি যেহেতু একটু বই টই পড়তে ভালোবসি তাই এগুলো নিয়ে একটু সার্চও করি বেশি । সেজন্যে আমার কাছে বিভিন্ন বই এর পেইজ, এডুকেশনাল কন্টেন্ট এগুলো বেশি আসে। আমার নিউজফিডে আমি এসব বেশিই পাই। তো কয়দিন থেকে একটি কোচিং সেন্টারের বিজ্ঞাপন দেখছিলাম সাথে তারা তাদের ডেমো ক্লাস দিয়েছিলো যা আমি নিয়মিত ফলো করতাম। এক সময় আমার তাদের কার্যক্রম খুবই ভালো লাগায় আমি আমার কয়েকজন স্টুডেন্টকে সেখান থেকে অনলাইনে ক্লাস করতে বলি। তো কথা হলো এই যে আমার মাধ্যমে ওরা কিছু স্টুডেন্ট পেলো ওদের রেভিনিউ হলো এটা কিভাবে সম্ভব হলো? আমি ওদের কাজে সন্তুষ্ট হওয়ায়। এখন আমি কিভাবে সন্তুষ্ট হলাম? তখন আসে সোস্যাল মিডিয়া মার্কেটিং গুরুত্ব কারন আমি কেবল ওদের ফেইসবুকে প্রচারনা ও সাজানো গোছানো কার্যক্রম দেখেই উদ্ভুদ্ধ হয়েছি। তাহলে এখন নিশ্চয়অই বুঝতে পারছেন সোস্যাল মিডিয়া মার্কেটিং এর গুরুত্ব। তো চলুন জেনে যাক আরেকটু বিস্তারিত।

ব্রান্ড ভয়েস ছড়িয়ে দিন

একটু সহজভাবে চিন্তা করলেই বুঝা যায়, সোস্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীর সংখ্যা কয়েক কোটি। এখন আপনার ব্রান্ড যদি সোস্যাল মিডিয়ায় এক্টিভ না থাকে তাহলে আপনি এই বিশাল সংখ্যক লোকের কাছে নিজের ব্রান্ডের পরিচিতি তুলে ধরতে পারবেন না। সোস্যাল মিডিয়ায় আপনার ব্রান্ডের নিয়মিত মানসম্পন্ন কন্টেন্ট থাকতে হবে। ইউজারদের আপনার ব্রান্ডের লাইক, কমেন্ট, শেয়ার করতে একটা ব্যস্ততা তৈরি হবে আর ব্রান্ড এওয়ারনেস বাড়তে থাকবে। সোস্যাল মিডিয়ায় আপনার ওয়েবসাইটের লিংক শেয়ারের মাধ্যমে আপনার ওয়েবসাইটে ভিজিটর বাড়াতে পারবেন। এর জন্যে আপনি আপনার  প্রোফাইল, বায়ো এবং পোস্টে আপনার ওয়েবসাইটের সরাসরি লিঙ্কগুলি অন্তর্ভুক্ত করতে পারেন।

লিড জেনারেশন করুন

সোশ্যাল মিডিয়াতে আপনার পণ্যের প্রচার এবং শেয়ার করার মাধ্যমে আপনি সহজেই লিড জেনারেশোন ও আপনার সেল বাড়াতে পারেন। এছাড়া আপনি যখন বিজ্ঞাপন দিবেন তখন অনেকেই আপনার একাউন্ট ফলো করবে। এতে আপনার সেলস ও লিড দুইটাই বাড়বে। লিড বাড়াতে আরো যেসব করতে পারেন তা হলোঃ

  •  ফলোয়ারদের জন্য আপনার সামাজিক মাধ্যমগুলোতে অংশগ্রহণের জন্য বিভিন্ন প্রতিযোগিতার আয়োজন করেন।
  • আপনার প্রোফাইলের বায়োতে ওয়েবসাইটের লিঙ্ক এবং অফারগুলো দিয়ে রাখুন।
  • পণ্য সম্পর্কিত বিভিন্ন  ঘোষণা  এবং আপনার কোম্পানির উত্তেজনাপূর্ণ খবর সম্পর্কে আপডেট বা বিশদ প্রদান করতে লাইভ ভিডিও হোস্ট করুন।
  • নিয়মিত সোস্যাল মিডিয়া মার্কেটিং ক্যাম্পেইন পরিচালনা করেন।
  • নিজের ব্যক্তিগত প্রোফাইলেও ব্যবসায়িক পণ্যের প্রচার করুন।

গ্রাহকদের সাথে সম্পর্ক গড়ে তুলুন

নিয়মিত গ্রাহকদের সাথে কানেক্টেড থাকার মাধ্যমে এক সময় আপনি গ্রাহকদের সাথে একটি স্থায়ী সম্পর্ক তৈরি করতে পারবেন যা আপনার ব্যবসার জন্যে কল্যানকর। কারন আপনার শুভাকাঙ্খী নিশ্চয়ই আপনার কাছে থাকা পণ্য অন্যের কাছ থেকে নিতে চাইবে না। রিলেশন তৈরি করার জন্যে নিয়মির পোস্ট করুন, তাদের কমেন্টের রিপ্লাই দিন, প্রশ্নগুলোর উত্তর দিন। কোনো হেল্প চাইলে সাহায্য করার চেষ্টা করুন। এছাড়াও গ্রাহকদের আপনার পণ্য সম্পর্কে জিজ্ঞাস করতে পারেন এর সাথে ওদের ভালো মন্দ জিজ্ঞাস করতে পারেন এতে ব্যবসার বাইরে একটা ব্যক্তিগত সম্পর্ক তৈরি হবে।

আপনার কম্পিটিটর থেকে শিখুন

সোস্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে আপনি সহজেই আপনার কম্পিটিটরদের এনালাইজ করতে পারেন। তারা কোন পণ্যগুলো বেশি প্রচার করছে, কি ধরনের ক্যাম্পেইন রান করছে, কিভাবে ফলোয়ারদের সাথে ইন্টারেকশন করছে এই বিষয়গুলো খেয়াল করুন। সোশ্যাল মিডিয়া আপনাকে আপনার প্রতিযোগিতার জন্য কী করতে পারবেন আর কি পারবেন না তা দেখার অনুমতি দেয়। এতে করে আপনি বুঝতে পারবেন আপনার কোন কোন বিষয়ে পরিবর্তন আনা উচিৎ।

সবশেষে, আপনার প্রতিযোগীদের সোস্যাল অ্যাকাউন্ট পর্যালোচনা করে নিজের একাউন্ট করে এমনভাবে সাজান যাতে বুঝা যায় যে আপনার ব্রান্ডটি অনন্য।

কিভাবে সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং স্ট্রাটেজি তৈরি করবেন

সোস্যাল মিডিয়া ক্রমাগত বিকশিত হচ্ছে যুক্ত হচ্ছে নানান নতুন স্ট্রাটেজি সেই সাথে তৈরি হচ্ছে নতুন ব্রান্ড তাই আপনার ব্রান্ডকে টিকিয়ে রাখতে হলে এসব স্ট্রাটেজির সাথে তুলনা করে আপনার মার্কেটিং স্ট্রাটেজি তৈরি করতে হবে। এটি একটি পরিবর্তনশীল প্রক্রিয়া যেকোনো সময় প্রতিকূল অবস্থা সৃষ্টি হলে আপনাকে স্ট্রাটেজি পরিবর্তন করতে হবে। 

আপনার গ্রাহক পর্যালোচনা করুন

মার্কেটিং স্ট্রাটেজির প্রথমেই আপনাকে নির্ধারন করতে হবে কারা আপনার ক্রেতা। তাদের টার্গেট করেই আপনার প্রচার প্রচারনা থাকবে, তাদের সাইকোলজি বিশ্লেষন করে তারা কখন কি করে, কোথায় সময় কাটায়, কখন অনলাইনে থাকে এসব বিশ্লেষন করুন। এতে আপনার বিজ্ঞাপনে আশানুরুপ সাড়া পাবেন। ধরুন আপনার যদি এ লেভেল ও লেভেলের এডুকেশনাল কন্টেন্ট হয়, তাহলে তো আপনি ভার্সিটির স্টুডেন্ট কিংবা বয়স্কদের টার্গেট করে প্রচারনা চালালে হবে না। তাই আপনাকে নির্দিষ্ট গ্রাহকদের টার্গেট করে কি কি তাদের আকর্ষন করে সে অনুযায়ী স্ট্রাটেজি তৈরি করতে হবে।

সামাজিক প্লাটফর্ম নির্ধারন করুন

একজন সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটার হিসেবে, আপনি কোন প্ল্যাটফর্মে আপনার বিষয়বস্তু শেয়ার করতে চান তা নির্ধারণ করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আপনার কোন সোস্যাল চ্যানেলগুলো ব্যবহার করা উচিত তা সঠিক করে বলা যাবে না কারন এটি নির্ভর করে আপনার টার্গেট অডিয়েন্সের চাহিদা এবং তারা তাদের সময় কোথায় ব্যয় করে তার উপর।

উদাহরণস্বরূপ, আপনি যদি ক্রীড়া-প্রেমীদের টার্গেট করতে চান, তাহলে আপনি Instagram-এ  সর্বোচ্চ ফোকাস করা উচিৎ। কারন এই প্লাটফর্মেই তাদের বেশি পাবেন।

আপনার মেট্রিক্স এবং কেপিআই স্থাপন করুন

আপনার পোস্টের রিচ, ক্লিকস, এংগেজমেন্ট, হ্যাসট্যাগ পারফরম্যান্স, অর্গানিক ও পেইড লাইক বিশ্লেষন করুন। নিয়মিত পর্যালোচনা করুন যে আপনার পোস্ট কতজনের নিউজ ফিডে গেলো, এটা আপনি রিচ দেখে বুঝতে পারেন। ক্লিক থেকে আপনি বুঝতে পারবেন কতজন আপনার সাইটে এসেছে এবং পণ্য কিনতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। সামাজিক যোগাযোগের মোট সংখ্যাকে ইম্প্রেশনের সংখ্যা দিয়ে ভাগ করা হয়েছে। এংগেইজমেন্ট আপনার শ্রোতারা আপনাকে কতটা ভালভাবে উপলব্ধি করে এবং তাদের ইন্টারঅ্যাক্ট করার ইচ্ছার উপর আলোকপাত করে।

প্রতিযোগীদের এনালাইসিস করুন

এর মাধ্যমে আপনি জানতে পারবেন আপনার নিকটতম প্রতিদ্বন্দী কারা এবং তারা কে কোন অবস্থায় আছে। আপনার সাথে কাদের পণ্যের সবচেয়ে বেশি প্রতিযোগিতা। এসব বিশ্লেষনে আপনি অনেক ধারনা পাবেন যা আপনাকে নিজ স্ট্রাটেজি সাজাতে সাহায্য করবে। আপনার প্রতিযোগী হয়ত ফেইসবুকে ভালো অবস্থানে আছে অথচ টুইটার কিংবা ইনস্টাগ্রামে নেই সেক্ষত্রে আপনার কাজ হলো সেসব মিডিয়ায় জোর প্রচারনা চালানো। 

ইউনিক কন্টেন্ট তৈরি করুন

বিশ্ব জুড়ে কোটি কোটি সোস্যাল মিডিয়া ইউজার রয়েছে এদের মধ্যে কেউ না কেউ অবশ্যই আপনার কন্টেন্ট ও আপনার প্রতিযোগীদের কন্টেন্ট দেখে তুলনা করে। এতে আপনার কন্টেন্ট তুলনামূলক লো কোয়ালিটিসম্পন্ন হলে আপনার সাইট ট্রাফিক হারাবে। এজন্যে আপনাকে অবশ্যই আকর্ষণীয় ও অনন্য কন্টেন্ট তৈরি করতে হবে যাতে ভিজিটর ক্লিক করার আগ্রহ পায়। এজন্যে প্রায়শই আপডেট প্রোডাক্ট সম্পর্কে লাইভ ভিডিও তৈরী করুন। সর্বশেষ ট্রেন্ডকে গুরুত্বের সাথে নিতে হবে কারন নেটিজেনরা সোস্যাল মিডিয়ার সর্বশেষ ট্রেন্ড নিয়ে মেতে থাকতে পছন্দ করে আপনার নিশ্চয়ই সেই সুযোগ হাতবছাড়া করা উচিৎ নয়। যদি আপনি একটি ইস্যুও মিস করেন তাতেও আপনি কিছু ট্রাফিক হারাবেন। 

পোস্ট করার জন্যে একটি সিডিউল তৈরি করুন

অনেক সময় লক্ষ্য করা যায়, নতুন পণ্য এসেছে বা পণ্যের আপডেট হয়েছে কিংবা অফার লঞ্চ হয়েছে কিন্তু তা পোস্ট করা হয়নি। তাতে বড় ক্ষতি হয়ে যায়। এজন্যে পরিকল্পনা অনুযায়ী পোস্ট করার সবচেয়ে সহজ একটি উপায় হলো সোস্যাল মিডিয়া ম্যানেজমেন্ট টুল ব্যবহার করা। এই টুলস গুলো আপনাকে ক্যাপশন লিখতে, ইমেজ বা ভিডিও তৈরিতে ও অগ্রীম পোস্ট সিডিউল তৈরি করতে সাহায্য করে যা অটোমেটিক্যালি পোস্ট হয়ে যায়। এতে আপনার সময় সেইভ হয় এবং আপনি সহজে কন্টেন্ট মনিটরিং করার সুযোগ পাবেন। HubSpot, Sprout Social, Hootsuite এ জাতীয় কয়টি সোস্যাল মিডিয়া ম্যানেজমেন্ট টুলস। 

সপ্তাহে কতবার করে পোস্ট করব?

কতবার পোস্ট করবেন তা নির্ভর করবে আপনার কন্টেন্ট এর উপর। আপনার কন্টেন্ট যদি সুপার ভেল্যুয়েবল হয় তাহলে আপনি যতবার এরকম কন্টেন্ট তৈরি করতে পারবেন ততবার পোস্ট করে দিবেন সেটা সপ্তাহে যতবারই হয়।  কিন্তু নিম্নমানের কন্টেন্ট শেয়ার করা যাবে না। অনেকে কোয়ালিটি থেকে কোয়ান্টিটিকে প্রাধান্য দেয় অর্থাৎ এই ভাবে যে যত বেশি পোস্ট করব তত বেশি ভিজিটর আসবে কিন্তু লো কোয়ালিটির কন্টেন্ট এর ফলে যে আপনি ভিজিটর হারাবেন তা মাথায় থাকে না। 

কীভাবে বুঝবেন যে আপনার মার্কেটিং সফল হচ্ছে কিনা?

এত এত মহাআয়োজন করে মার্কেটিং করবেন আর তা সফল হচ্ছে কিনা তা তো অবশ্যই দেখতে হবে। সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং-এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলোর একটি হল আপনার মার্কেটিং সফলভাবে হচ্ছে কিনা তা নিশ্চিত হওয়া । এজন্যে আপনাকে আপনার সবগুলো সোস্যাল মিডিয়া ট্র্যাক করতে হবে ৷ আপনি চাইলে সোশ্যাল মিডিয়া মেট্রিক্স ব্যবহার করে এটি করতে পারেন। 

সোশ্যাল মিডিয়া মেট্রিক্স

সোশ্যাল মিডিয়া মেট্রিক্স হলো এক ধরনের ডাটা যা আপনাকে বিভিন্ন প্লাটফর্মে করা আপনার করা পোস্টগুলো কতটা রিচ হয়েছে বা গ্রাহক তাতে কতটুকু এংগেইজ হয়েছে সে সম্পর্কে ধারনা দিবে। নিচে এর কয়েকটি ফর্ম নিয়ে আলোচনা করলাম।

রিচঃ আপনার পেইজ বা প্রোফাইলের সাথে যুক্ত কোনো কন্টেন্ট দেখেছেন এমন লোকের সংখ্যা-ই হলো রিচ। এটা দেখে ধারনা নিতে পারেন আপনার পোস্ট কত মানুষ দেখছে।

ফলোয়ারঃ এটি হল আপনার প্রোফাইলে এমন লোকের সংখ্যা যারা আপনার “ফলোয়িং” বাটনে ক্লিক করেছেন এবং তাদের নিউজ ফিডে আপনার পোস্টগুলো যাচ্ছে। ভালো অবস্থানে যাওয়ার ক্ষেত্রে বেশী ফলোয়ার থাকা অনেক গুরুত্বপূর্ণ।

ভিডিও ভিউজঃ এটা হলো আপনার পোস্ট করা বিভিন্ন সোস্যাল মিডিয়ার ভিডিওগুলো কতজন দেখেছেন সেই সংখ্যা।

প্রোফাইল ভিজিটঃ আপনার সোশ্যাল মিডিয়া পেজের প্রোফাইল ভিজিট করে এমন লোকের সংখ্যা হল আপনার প্রোফাইল ভিজিটের সংখ্যা।

ট্যাগসঃ এটি হল যখন আপনার অডিয়েন্স আপনার কোম্পানির নাম বা আপনার হ্যাশট্যাগ অন্য পোস্টে যোগ করে।

মেনশনঃ আপনার ওডিয়েন্সগন তাদের পোস্টে আপনার প্রোফাইলটি কতবার মেনশন করেছে সেই সংখ্যা।

এছাড়া আপনি ফেইসবুক এনালিটিক্স, টুইটার এনালিটিক্স ও গুগল এনালিটিক্সের সাহায্যে আরো সহজে আপনার গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষনগুলো করতে পারেন।

উপসংহার

এই ছিলো আমাদের আজকের সোস্যাল মিডিয়া মার্কেটিং এর বিস্তারিত। আসলে এখন এমন দিন এসেছে যে আপনি সোস্যাল মিডিয়া মার্কেটিং এ এক্সপার্ট না হতে পারলে কিংবা সঠিকভাবে এই প্লাটফর্মে মার্কেটিং করতে ব্যর্থ হলে আপনার টিকে থাকা কঠিন। তাই যারা ব্যবসায়ী আছেন তাদের সোস্যাল মিডিয়া মার্কেটিং সম্পর্কে ভালো ধারনা থাকা আবশ্যক।

ড্যাটা ড্রিভেন ডিজিটাল মার্কেটিং শিখুন!

4728dbbc5c6763f37c33f5ebb100ad9e?s=150&d=mm&r=g

Tanvir Brain

 themarketerbd@gmail.com  https://www.monsterbangla.com

We will be happy to hear your oughts

Leave a reply

Monster Bangla
Logo
Compare items
  • Total (0)
Compare
Shopping cart