অল্প পুজিতে কয়েকটি লাভজনক ব্যবসা

অল্প টাকায় কিভাবে ব্যবসা করা যায় আজকের আর্টিকেলে আমরা তা জানার চেষ্টা করব। ব্যবসার কথা মাথায় আসলেই অনেকে ভাবেন, ব্যবসা করতে হলে তো অনেক টাকার প্রয়োজন । ব্যবসা করতে টাকার প্রয়োজন এ কথা মিথ্যে নয় কিন্তু সব ব্যবসার জন্যে অনেক বেশি টাকার প্রয়োজন পড়ে না। অধিক জনসংখ্যার প্রিয় এই মাতৃভূমিতে চাইলেই সরকার কিংবা প্রাইভেট সেক্টর সবাইকে চাকরির ব্যবস্থা করে দিতে পারেনা। তাই আমাদের দেশ থেকে প্রতি বছর অনেক শিক্ষিত, অর্ধ শিক্ষিত কিংবা অশিক্ষিত বহু ছেলে মেয়ে বিদেশ পাড়ি জমায়। বিদেশ থেকে পাঠানো এই রেমিট্যান্সে দেশের অর্থনীতির চাকা সচল থাকে এ কথা সত্যি। এখন সবার পক্ষে তো আবার বিদেশ যাওয়াও সম্ভব না। আর দেশে থেকেও অনেকে স্কিলের অভাবে চাকরি পাচ্ছে না । তারা কি করবে? সহজ হিসাব, তারা ব্যবসা করবে। আপনার ব্যবসা ছোট হউক কিংবা বড় সেখানে অন্য কারও খবরদারি চলে না। একজন সার্ভিস হোল্ডারকে যেমন ন্যায় অন্যায়ের বাচ বিচারের বাইরে গিয়েও হাই কমান্ডের নিয়ম অনুযায়ী চলতে হয়, একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীকেও কিন্তু এমন সীমাবদ্ধতার মধ্যে থাকতে হয় না। দিন শেষে নিজের প্রতিষ্ঠানে নিজের শ্রমে কিছু আয় হলেই তাতে একটা তৃপ্তি পাওয়া যায়। নিজের ব্যবসা ছোট হউক বা যাই হউক সেটাকে ছোট করে না দেখে সেখানে পর্যাপ্ত পরিশ্রম করে বড় করার চেষ্টা  করা উচিৎ। কারন আমাদের দেশে এমন অনেক নামকরা শিল্পপতি আছেন, যারা সামান্য ব্যবসা করে আজকে এ পর্যায়ে এসেছেন।

ইসলামে ব্যবসার গুরুত্ব 

ইসলামিক নিয়ম অনুযায়ী, আল্লাহ পাক উম্মাহর প্রতি সুদ হারাম ও ব্যবসা হালাল করেছেন। হাদিস অনুয়ায়ী, সৎ ও বিশ্বাসী ব্যবসায়ী গন কেয়ামতের দিন বিশেষ মর্যাদা পাবে। আমাদের প্রিয়নবী সাঃ ব্যবসা করেছেন। তাই ব্যবসা করা আমাদের জন্যে সুন্নাত। হালাল ব্যবসায় আল্লাহ পাকের বরকত থাকে। রাসূল সাঃ বলেন, “নিজ হাতে উপার্জন করা ও হালাল ব্যবসার উপার্জন সর্বোত্তম”। তবে আপনার ব্যবসায় যদি কোনো সুদ জড়িত থাকে তবে ব্যবসা হারাম হবে এবং এই কাজের জন্যে আপনাকে আখিরাতে শাস্তি পেতে হবে। যেমনঃ কেউ যদি ইসলামী শরীয়ার বাইরে থাকা ব্যংকিং ব্যবসার সাথে জড়িত থাকে তবে তাঁর ব্যবসা নিশ্চয়ই হালাল নয়। 

অল্প টাকায় ব্যবসা

অল্প টাকায় কিভাবে আমরা ব্যবসা শুরু করতে পারি,  কোন ধরনের ব্যবসা করতে পারি  সেই সম্পর্কে কিছু ক্যাটাগরি আমরা তুলে ধরলাম যাতে করে আপনারা একটি আইডিয়া পেয়ে যান।  অবশ্যই  এখানে এমন বিজনেস উল্লেখ যে অল্প টাকায় শুরু করতে পারেন তো চলুন শুরু করা যাক।

মোবাইল রিচার্জের ব্যবসা

এখন সবার হাতে হাতে মোবাইল ফোন । সিম কোম্পানি থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, প্রায় সাড়ে ১৬ কোটি মোবাইল সিম আমাদের দেশে ব্যবহৃত হচ্ছে। এটা খুব সহজেই বুঝা যায় যে এই ব্যবসার চাহিদা কত। রাস্তার পাশে একটি ছোট্ট টেবিল বসিয়েও যদি রিচার্জ করা হয়, সেখানেও গ্রাহকের অভাব হয় না। ডিজিটাল যুগের সাথে তাল মিলিয়ে আমাদের দেশেও ২০০৬ সাল থেকে মোবাইল ব্যবহারকারীর সংখ্যা বাড়তে থাকে, এটা কয়েক বছরের মধ্যেই সবার হাতে পৌছে যায়। মানুষ এখন মোবাইল ছাড়া চলতেই পারেনা। সকল ধরনের যোগাযোগে এখন আমরা মোবাইল নির্ভর হয়ে পড়েছি। আপনি নিজে ১ মাসে মোবাইলে কত টাকা রিচার্জ করেছেন হিসাব করে দেখুন। আপনার মতো সবাইকেই কমবেশি মোবাইল রিচার্জ করতে হয়। আপনি চাইলে কয়েক হাজার টাকার মধ্যে এই ব্যবসা করতে পারেন। এই ব্যবসা করতে আপনার রাস্তার পাশে ছোট্ট একটি দোকান হলেই হবে। অবশ্য দোকান ছাড়াও মোবাইল রিচার্জের ব্যবসা করা যায়। আপনাকে দেশের সকল সিম কোম্পানির প্রিপেইড ও পোস্ট পেইড রিচার্জ রাখতে হবে, যাতে কোনো গ্রাহক এসে ফিরে যেতে না হয়। এতে আপনি অল্প সময়ে পরিচিতি পেয়ে যাবেন। মোবাইল রিচার্জের ব্যবসা এখন বেশ  লাভজনক।

ফাস্ট ফুডের ব্যবসা

শরীরের জন্যে ভালো কি খারাপ, ফাস্ট ফুড সামনে পড়লে আমাদের আর সেই হুশ থাকে না। ভীষন মজাদার এসব খাবার না খেতে পারলে যেন জীবন বৃথা হয়ে যাচ্ছে। শহরের অলি গলি ঘুরলে অনেক ফাস্ট ফুডের দোকান পাওয়া যায়। বেশির ভাগ দোকানেই শেষ সময়ে গিয়ে খাবার পাওয়া যায় না, কারন আমরা ভোজন রসিক বাঙালিরা এই খাবার একটু বেশিই পছন্দ করি। আপনিও চাইলে ছোট্ট একটি দোকানে কিংবা জন সমাগম হয় এমন কোনো জায়গা বা বড় মলের সামনে ফাস্ট ফুডের দোকান দিতে পারেন। কম টাকায় এই ব্যবসা দিয়ে এখন বেশ ভালো টাকা আয় করা যায়। 

স্ট্যাশনারীর দোকান

আজকাল অনলাইনে বিভিন্ন কাজের চাহিদা অনেক বেড়েছে। স্ট্যাশনারী দোকানগুলোতে এখন গেলে যেন সিরিয়াল দিয়ে সেবা পেতে হয়। শহরে যে পরিমান স্ট্যাশনারী দোকান থাকার কথা সে পরিমান নেই। তাই এই ব্যবসা দিয়ে ভালো টাকা আয় করা সম্ভব। কম্পিউটার, প্রিন্টার, ফটোকপি মেশিনের মতো অল্প কিছু সরঞ্জামাদি দিয়ে এই ব্যবসা শুরু করতে পারেন। অল্প দিনেই ভালো পজিশনে যেতে পারবেন। তবে এ ধরনের দোকান কোনো ভালো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাশে হলে ভালো হয়। এতে নিয়মিত প্রচুর স্টুডেন্ট বিভিন্ন কাজে আপনার দোকানে আসবে।

কোচিং এর ব্যবসা

আপনি যদি ভালো টিচিং করতে পারেন তাহলে এই ব্যবসায় আপনি সফলতা পেতে পারেন। আপনাকে এ জন্যে আবাসিক এলাকার মধ্যে উপযুক্ত কোনো প্লেইস খুজে নিতে হবে। অনেকেই নিজ বাসায়ও কোচিং সেন্টার দেন। অনেক বাড়িওয়ালা আবাসিক বাসায় ছাত্র ছাত্রীরা আসবে তাই ঝামেলার ভয়ে কোচিং সেন্টারের জন্যে ভাড়া দিতে চায় না। তবে আপনার একান্ত ইচ্ছে থাকলে আপনি অবশ্যই কোচিং এর জন্যে রুম পাবেন। কোচিং ব্যবসা আপনার একটি বড় রুম, শিক্ষার্থীদের বসার বেঞ্চ, বোর্ড আর আনুসাঙ্গিক কিছু জিনিস হলেই শুরু করা যায়। অল্প কিছু টাকা আপনাকে প্রথমে ইনবেস্ট করতে হবে তবে তা উঠে যেতে বেশিদিন সময় লাগবে না আপনার। এই ব্যবসায় নিয়মিত ইনবেস্ট করার কোনো প্রয়োজন হয় না তাই টাকা নিয়েও চিন্তায় থাকতে হয় না। তবে আপনাকে অবশ্যই ভালো গাইডলাইন দিয়ে ভালো করে পড়াতে হবে এতে আপনার ব্যবসা স্ট্যাবল হবে।

কপিশপ এর দোকান

অল্প টাকায় শুরু করা যায় এমন কয়েকটি ব্যবসার মধ্যে একটি হলো কপি শপের ব্যবসা। কপি মানুষের শারীরিক ও মানসিক ক্লান্তি দূর করে মনকে সতেজ করে। এ জন্যে বেশির ভাগ মানুষ কপি খেতে পছন্দ করেন। বিশেষ করে কর্মজীবীদের খুবই প্রিয় এটি। অফিস শেষ করে কিংবা কাজের ফাকে এক কাপ কপি না হলেই মাথা ঝাম হয়ে যায়। আবার রাত জেগে যাদের কাজ করতে হয় তাদের তো বটেই। তাই শহরের আনাচে কানাচে এমনকি গ্রামের বাজার গুলোতেও কপিশপের দোকান পাওয়া যায়। কম টাকায় ছোট্ট একটি দোকান ভাড়া নিয়ে সাথে চেয়ার টেবিল ও টুকিটাকি প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র নিয়ে ব্যবসা শুরু করা যায়। এরপর আস্তে আস্তে পরিধি বৃদ্ধি করা যায়। কমার্শিয়াল স্পেসে কপির ব্যবসা ভালো হয়, যদিও এসব জায়গায় দোকানের ভাড়া কিছুটা বেশি হবে।

ডেলিভারি ব্যবসা 

অনলাইনে কেনাকাটা দিন দিন অনেক বাড়ছে। শহরে তীব্র যানজট ও বাইরের ধুলাবালি শব্দের কারনে মানুষ খুব বেশি প্রয়োজন না হলে বের হতে চায় না। তখন ঘরে বসেই অর্ডার করে দেয়। অর্ডার করার পরেই পন্য কাস্টমারের বাসায় পৌছে দেয়ার দায়িত্ব পড়ে ডেলিভারি কোম্পানীর উপর। এজন্যে দেশে এখন অনেকগুলো নতুন নতুন ডেলিভারি কোম্পানি তৈরি হয়েছে। এখানে সুবিধা হলো অল্প টাকায় ব্যবসা শুরু করা যায়। আপনার কয়েকটা ক্লায়েন্ট থাকলে কয়েকজন ডেলিভারি ম্যান নিয়ে ব্যবসা শুরু করতে পারেন। সার্ভিস ভালো দিতে পারলে অল্প দিনেই অনেক ক্লায়েন্ট পাবেন। ডেলিভারির ব্যবসা এখন বেশ জমজমাট চলছে। তবে এই ব্যবসা করতে হলে আপনাকে প্রথমদিকে বেশ পরিশ্রম করতে হবে। আস্তে আস্তে সেটার সুফল পেতে শুরু করবেন।

মোবাইল/কম্পিউটার সার্ভিসিং

যেহেতু এখন সবার হাতে হাতে মোবাইল, তাই এই ব্যবসা এখন খুবই লাভজনক। আপনি যেখানেই একটি সার্ভিসিং এর দোকান দিবেন সেটা বেশ ভালো রান করবে। তবে এই ব্যবসা দেয়ার আগে আপনাকে সার্ভিসিং এর কাজ জানতে হবে। কাজে আপনি এক্সপার্ট হলে ধরে নিন আপনি অল্পদিনেই এই ব্যবসায় সফল হতে পারবেন। একটি মোবাইল সার্ভিসিং করালে সর্বনিম্ন এখন ১০০টাকার কমে বিল হয় না। আর কম্পিউটারে তো হাত দিলেই ৫০০-১০০০টাকা বিল হয়ে যায়। আপনি কম টাকার মধ্যে এই ব্যবসা দিয়ে সফল হতে পারেন। 

ই কমার্স ব্যবসা

তুলনামূলক কম পুঁজি ও কম পরিশ্রমে ভালো টাকা আয় করার উপায় হলো ইকমার্স ব্যবসায়। আমার নিজের চোখে এমন অনেক তরুনকে দেখেছি শুধু একটি ফেইসবুক পেইজের মাধ্যমে জামা কাপড় বিক্রি অনেক টাকা ইনকাম করেছে। আজকে তারা এই খাতে বেশ ভালো অবস্থানে আছে। অনলাইন থেকে মানুষ এখন প্রচুর পণ্য কিনে। আপনি যদি মানুষকে কম টাকায় ভালো প্রোডাক্ট দিতে পারেন, মানুষকে যদি না ঠকান তবে আপনি অতি দ্রুত সফল হবেন। ইকমার্স ব্যবসা আপনি আপনার বাসায় থেকেও করতে পারেন। অবশ্য ছোটখাটো অফিস কিংবা দোকান থাকলে গ্রাহকের আপনার পণ্যের প্রতি বিশ্বাস বাড়বে। আপনি প্রথমে আপনার পণ্য বা সেবা কি হবে তা নির্ধারন করুন। এরপর সেগুলো উন্নত গ্রাফিক্সের মাধ্যমে আপনার পেইজে আপ্লোড করে পেইড বিজ্ঞাপন দিন। তাতেই আশা করি ভালো কাস্টমার পাবেন। 

ফার্মেসীর ব্যবসা

আপনার যদি ঔষধের দোকানে কাজ করার অভিজ্ঞতা থাকে তাহলে এই ব্যবসাটি করতে পারেন। কম টাকায় ছোট করে একটি দোকান দিলেই সম্মানজনক একটি আয় হবে মাসে। আজকাল শহরে বাসায় গিয়ে শুধু ডায়াবেটিস কিংবা প্রেসার মেপে দিয়ে আসলে ২০০টাকা দিতে হয়। আর ইঞ্জেকশন, স্যালাইন পুশ, ড্রেসিং, সেলাই এসব কাজ জানলে তো আর কথাই নেই। প্রতিদিনই ঔষধ বিক্রি ছাড়াও ভালো একটা ইনকাম হয়। এছাড়া ফার্মেসীর মালিকগন ঔষধ কোম্পানি, হসপিটাল থেকে বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা পেয়ে থাকে। তো আপনি যদি এই ব্যবসা করতে চান তবে আপনাকে অবশ্যই প্রথমে ফার্মাসিস্ট কোর্সটি করে নিতে হবে। সেই সাথে ঔষধের দোকানে থেকে অভিজ্ঞতা নিতে হবে। ইঞ্জেকশন ও স্যালাইন পুশ, ড্রেসিং-সেলাই এর কাজগুলো ভালোভাবে পারতে হবে। এতে করে আপনি অল্প দিনেই এলাকায় ভালো জনপ্রিয়তা পাবেন। 

ছাগলের খামারের ব্যবসা

গ্রামে অনেকেই গরু ছাগল পালন করে থাকে। চাইলে একটু বড় পরিসরে জায়গা করে নিলে অনেক গুলো ছাগল পালন করা যায়। ছাগল পালনে গরুর মতো বেশি খরচ পড়ে না। খাসী ছাগল এখন বেশ চড়া দামে বিক্রি হয়। কুরবান ঈদের আগে আপনি কয়েকটি খাসী ছাগল বিক্রি করতে পারলে অনেক বেশী টাকা আয় করতে পারবেন। এছাড়া ছাগলের দুধ, বাচুর বিক্রি করে ভালো টাকা আয় হয়। খাসী জবাই করে ভাগ করে বিক্রি করলেও ভালো টাকা আয় করা যায়। 

শেষকথা 

এই ছিল আমাদের অল্প পুজিতে কয়েকটি লাভজনক ব্যবসার আইডিয়া। আপনি এসব আইডিয়া কাজে লাগিয়ে ব্যবসা করতে পারেন। তবে ব্যবসায় নামার আগে অবশ্যই সবদিক বিচার বিশ্লেষন করে নামবেন। পর্যাপ্ত শ্রম ও অর্থের জোগান দিতে না পারলে ব্যবসায় আপনি বেশীদিন টিকতে পারবেন না। তাই সবদিক ভেবেই ব্যবসা শুরু করুন। 

4728dbbc5c6763f37c33f5ebb100ad9e?s=150&d=mm&r=g

Tanvir Brain

 themarketerbd@gmail.com  https://www.monsterbangla.com

We will be happy to hear your oughts

Leave a reply

Monster Bangla
Logo
Compare items
  • Total (0)
Compare
Shopping cart