এসাইনমেন্ট লেখার নিয়ম | অ্যাসাইনমেন্ট কিভাবে লিখবেন?

শিক্ষার্থীদের নিকট খুবই কমন একটি টার্ম হলো এসাইনমেন্ট যা তাদের পুরো শিক্ষাজীবনজুড়েই করতে হয়। অথচ অনেক শিক্ষার্থী কিভাবে এসাইনমেন্ট লিখতে হয় তা জানে না। অ্যাসাইনমেন্ট লেখার নিয়ম জানা প্রত্যেক শিক্ষার্থীর জন্যে আবশ্যক। ভার্সিটি লাইফের প্রায় প্রত্যেক সপ্তাহে কোনো না কোনো কোর্সের এসাইনমেন্ট থাকবেই। শিক্ষার্থীদের মেধার বিকাশ ও সৃজনশীল দক্ষতা যাচাই করার জন্যে শিক্ষক এসাইনমেন্ট দিয়ে থাকেন।

অ্যাসাইনমেন্ট কি

সোজা কথায় এসাইনমেন্ট হলো হোম ওয়ার্ক বা বাড়ির কাজ। ছোট বেলায় টিচাররা আমাদের যে H.W. দিতো বড় হয়ে আমরা সেটাকে এসাইনমেন্ট বলি। এসাইনমেন্ট একটা নির্দিষ্ট বিষয়ের উপর হয়ে থাকে যা লিখিত মূল্যয়ন অথবা ব্যবহারিক অথবা দুটোর সংমিশ্রনে হতে পারে। 

অ্যাসাইনমেন্ট লেখার নিয়ম

এসাইনমেন্ট সাবলীল ও মার্জিত ভাষায় লিখতে হবে। কারন এসাইনমেন্টে আপনাকে যে নাম্বার দেয়া হবে সেটা আপনার মূল পরীক্ষার নাম্বারের সাথে যোগ হয়। তাই গুরুত্ব সহকারে এসাইনমেন্ট করতে হবে। এসাইনমেন্ট লেখার ক্ষেত্রে কিছু জিনিস পত্র দরকার হবে যেমনঃ

১  A4 সাইজের অফসেট কাগজ ও কালো কালির বলপেন।

২ অফসেট পেপারে মার্জিন করার জন্যে স্কেল ও পেন্সিল।

৩ এসাইনমেন্টের নির্ধারিত বিষয়।

৪ তথ্য সংগ্রহ করার জন্যে বই, কাগজ কিংবা ইন্টারনেটযুক্ত স্মার্ট ডিভাইস।

এসাইনমেন্ট কভার পেইজ

এসাইনমেন্টের কভার পেইজটি নিজে না লিখে কম্পিউটার দিয়ে টাইফ করিয়ে নিলে ভালো হয়। কভার পেইজটি এসাইনমেন্টের গুরুত্বপূর্ণ একটা পেইজ। তাই অ্যাসাইনমেন্ট কভার পেজ লেখার নিয়ম জানতে হবে। মূল্যয়নকারী প্রথমেই এই পেইজটি দেখবেন। তাই এটি যতটা সম্ভব স্বচ্চ ও সুন্দর লেখার মাধ্যমে লিখতে হবে। একাডেমিক এসাইনমেন্ট লেখার ক্ষেত্রে সবার উপরে প্রতিষ্ঠানের নাম এরপর একে একে শ্রেনী, ক্লাস রোল, শাখা, বিষয় ও তারিখ উল্লেখ করতে হবে। 

এসাইনমেন্টে কি কি থাকা আবশ্যক

সাজানো গোছানো এসাইনমেন্ট পরিপূর্ণ মার্কস পেতে সহায়তা করে। তাই এসাইনমেন্ট সুন্দর হাতের লেখায় লিখতে হবে। এসাইনমেন্ট লেখার ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ লেখা ৩ ভাগ করে লিখতে হবে। প্রথম অংশে ভূমিকা, এরপর বিশদ বর্ণনা এবং শেষে মূল কথা লিখতে হবে।

ভূমিকাঃ এই অংশে শুধু নির্ধারিত বিষয় তুলে ধরে এর পরিচিতিমূলক কয়েকটি কথা লিখতে হবে যাতে করে এই অংশ পড়েই শিক্ষক বুঝতে পারেন যে বিষয়টি কি নিয়ে লেখা হয়েছে। 

বর্ণনাঃ বর্ণনায় এসাইনমেন্টের বিষয় এর উপর বিশদ আলোচনা করতে হবে। বর্ণনার ধরনের উপর নির্ভর করে আপনার এসাইনমেন্ট মূল্যয়ন হবে। তাই বর্ণনায় যতটা সম্ভব গুছিয়ে সব বিষয়গুলো উল্লেখ করতে হবে। প্রয়োজনীয় কোনো কিছুকেই বাদ দেয়া যাবে না। সৃজনশীল দক্ষতা প্রকাশের জন্যে বর্ণনা হতে হবে তথ্যবহুল।

মূলভাবঃ ভূমিকা ও বর্ণনা শেষ করে এই অংশে প্রাসঙ্গিক বিষয়ের ইতি টানতে হবে। 

সবার আরেকটু ভালোভাবে বুঝার জন্যে একটা অ্যাসাইনমেন্ট নমুনা নিচে দেয়া হলোঃ

 নমুনা এসাইনমেন্ট

শিক্ষার্থীর নামঃ   রাইহান আহম্মেদ

শ্রেণীঃ        নবম

শাখাঃ       

রোলঃ       

বিষয়ঃ      জীববিজ্ঞান

শিক্ষকের নামঃ  আলমগীর হোসেন

তারিখঃ  ১২ই জুলাই, ২০১৪

বিষয়ের শিরোনামঃ হার্ট এটাকের লক্ষন ও প্রতিরোধ।

হার্ট শরীরের সবেচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। নানা কারনে আমাদের হার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়। হার্টে কোনো সমস্যা হলে তা আগে থেকেই শরীরে বিভিন্ন সিগন্যাল দিয়ে বুঝিয়ে দেয় যে হার্ট অসুস্থ এবং হার্ট এটাক হতে পারে।

করোনারি ধমনিতে কোলেস্টেরল জমে যখন রক্তনালি ব্লক হয়ে যায়। তখন হার্ট এটাক হয়। তবে এই কোলেস্টেরল জমা হওয়া থেকে শুরু করে হার্ট এটাক হওয়া পর্যন্ত শরীরে অনেক লক্ষন দেখা দেয়। 

হার্ট এটাকের লক্ষন

১  বুকে অস্বস্তিঃ  বুকের ঠিক মাঝখানে অস্বস্তি হয়। বুক প্রচন্ড ভারী হয়ে যায় ও চাপ অনুভূত  হয়। বুকে প্রচন্ড ব্যথা হতে পারে।

২  নিঃশ্বাসে ব্যাঘাতঃ হার্ট এটাকে ঘন ঘন নিঃশ্বাস প্রশ্বাস ঘটে। দম বন্ধ হয়ে আসে।

৩  উর্ধ্বাঙ্গে অস্বস্তিঃ বাহু, পিঠ, গলা, চোয়াল, পাকস্থলিসহ বিভিন্ন অঙ্গে অস্বাভাবিক জড়তা ও অস্বস্তি  লাগে।            

৪ বমিঃ   হার্ট এটাকে বমি বমি ভাব বা বমি হতে পারে। সাথে শরীর দিয়ে ঠান্ডা ঘাম বেরিয়ে যায়। শরীর অসাড় হয়ে পড়ে।

৫ ঘুমে ব্যাঘাতঃ এটি হার্ট এটাকের অন্যতম লক্ষন। ঠিকভাবে ঘুম হয় না। নিজেকে শক্তিহীন বা শ্রান্ত বোধ হয়। 

প্রতিরোধ

সিরিয়াস হার্ট এটাকে বেশির ভাগই রুগী মারা যায়। তাই আগে থেকেই প্রতিরোধ করা ভালো।   প্রতিরোধ ব্যবস্থা হিসেবে যা যা করতে হবে তা হলোঃ

১ ঋতুকালীন টাটকা ফল ও শাক সবজি বেশি বেশি খেতে হবে।

২ উচ্চ কোলেস্টেরলযুক্ত খাবার পরিহার করতে হবে।

৩ BMI মেনে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চলতে হবে।

৪ ওজন, রক্তের কোলেস্টেরল, রক্তচাপ এগুলো নিয়ন্ত্রনে রাখতে হবে।

৫ ধুমপায়ী হলে তা পরিহার করতে হবে

৬ দৈনিক কমপক্ষে ৩০ মিনিট হাটতে হবে

৭ ডায়াবেটিস থাকলে হার্ট এটাকের ঝুকি বেড়ে যায় । যথাসম্ভব ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রনে রাখতে হবে। 

৮ বছরে কমপক্ষে একবার শরীর চেক আপ করতে হবে।

বিশ্বে মানুষের মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারন হলো হার্ট এটাক। এটি যেকোনো সময় যেকোনো পরিস্থিতিতে হয়ে যেতে পারে। তবে হার্ট এটাক প্রতিরোধে চিকিতসকদের দেয়া নির্দেশনা অনুযায়ী চলতে পারলে সুস্থ থাকা সম্ভব। তাই সকলের উচিৎ হার্ট সম্পর্কে সচেতন থাকা।

এসাইনমেন্ট নমুনাটি ভালো করে লক্ষ্য করুন কিভাবে এসাইনমেন্ট এর কভার পেজ(assignment er cover page) ও ভিতরের অংশগুলো লেখা হয়েছে। 

এসাইনমেন্ট লেখার আরো কিছু নিয়ম (assignment lekhar niyom)

১ এসাইনমেন্টের খাতায় পেন্সিল দিয়ে মার্জিন করতে হবে।

২ এসাইনমেন্টের বাক্য সরল হতে হবে । এতে বড় বড় জটিল বাক্য না লেখাই ভালো। এতে মুল্যয়নকারীর বুঝতে সুবিধা হবে।

৩ খাতায় সবগুলো পেইজ সমান মাপের হতে হবে। মার্জিন করার সময় কোনোটাতে কম কোনোটাতে বেশি করা যাবে না। 

৪ ওভার রাইটিং পরিহার করতে হবে। কোনো শব্দ বা বাক্য ভুল হলে তা মাঝ বরাবর একটানে কেটে সামনে লিখতে হবে।

৫ এসাইনমেন্টে(assignment er sironam) কালো কালির কলম দিয়ে লিখতে হবে। তবে পয়েন্টগুলো নীল কালি দিয়ে লেখা যাবে কিন্তু কোনোভাবেই লাল বা কমলা ব্যবহার করা যাবে না।

৬ বিজ্ঞান ও গনিতে প্রাসঙ্গিক বিষয়ে চিত্র আঁকা যেতে পারে । এতে ভালো নাম্বার পাওয়া যাবে।

এসাইনমেন্ট লেখার(assignment likhar niyom)  আগে এর বিষয়বস্তু ভালো করে পড়ে নিতে হবে। এসাইনমেন্টে সম্পূর্ণ লেখা নিজের হতে হবে। অন্যের এসাইনমেন্ট থেকে নকল করে লেখলে শিক্ষার্থীর নিজের প্রতিভা বা সৃজনশীল দক্ষতা তৈরি হবে না। শিক্ষক এক্ষেত্রে একই লেখার এসাইনমেন্ট বাতিল করে দিতে পারেন। এবং এই নকলের জন্যে শাস্তিও দিতে পারেন। তাই এসাইনমেন্ট নিজ মেধা খাটিয়ে লেখার চেষ্টা করতে হবে। 

আমাদের আজকের আর্টিকেলে আপনাদের এসাইনমেন্ট লেখার নিয়ম(অ্যাসাইনমেন্ট লেখার নিয়ম pdf) নিয়ে সংক্ষিপ্ত ধারনা দিয়েছি। আশা করছি এখন এসাইনমেন্ট কিভাবে লিখতে হয় তা বুঝতে পেরেছেন। উল্লিখিত নিয়ম মেনে এসাইনমেন্ট করলে ভালো নাম্বার আশা করতে পারেন। 

4728dbbc5c6763f37c33f5ebb100ad9e?s=150&d=mm&r=g

Tanvir Brain

 themarketerbd@gmail.com  https://www.monsterbangla.com

We will be happy to hear your oughts

Leave a reply

Monster Bangla
Logo
Compare items
  • Total (0)
Compare
Shopping cart