ডেটা ড্রিভেন ডিজিটাল মার্কেটিং সম্পর্কে বিস্তারিত

ফেইসবুক, ইন্সটাগ্রাম, ইউটিউব বা অন্য কোনো ইন্টারনেট নির্ভর  সোস্যাল পাল্টফর্ম ব্যবহার করে আমরা পণ্যের যে প্রচারনা চালাই তা হলো ডিজিটাল মার্কেটিং। আর ডিজিটাল মার্কেটিং কে সবচেয়ে বেশি ইফেক্টিভ করা হয় ডেটা ড্রিভেন মার্কেটিং এর মাধ্যমে। বর্তমানে এই মার্কেটিং অত্যন্ত জনপ্রিয় ও  সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি। আর আজকে আমরা আলোচনা করব ডেটা ড্রিভেন ডিজিটাল মার্কেটিং সম্পর্কে।

একটি জরিপে জানা যায় যে,  ব্যবসায়ীদের ক্ষেত্রে প্রায় ৮০ পার্সেন্ট এর উপর রেভিনিউ জেনারেটর ক্ষেত্রে, তারা বিভিন্নভাবে কোন ডাটা এজেন্সি থেকে ডাটা কালেক্ট করে তারওপর মার্কেটিং করে এবং তারা এক্ষেত্রে বেশ সফল হয়েছে। 

বর্তমান সময় যার কাছে  ইউজারের ডাটা কালেকশন আছে সে তত দ্রুত লাভবান হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।  মূলত ডাটা অস্ত্র হিসেবে কাজ করে একজন ব্যবসায়ীর জন্য।  ইউজারের জিওগ্রাফি সহ ইত্যাদি ডাটা কালেকশনে ঠিকঠাকভাবে সংগ্রহিত থাকে তবে ব্যবসায়ী সফল হবে বলে ধারণা করা যায়।

ডেটা ড্রিভেন ডিজিটাল মার্কেটিং শিখুন!

Table of Contents

এই পোস্টটি কাদের জন্য উপযোগী?

  • বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী
  • অনলাইন ফ্রিল্যান্সার
  • মার্কেটিং নতুন ইনডাস্ট্রিতে এসেছে
  • ডেটাভিত্তিক ডিজিটাল মার্কেটিং এ আগ্রহী
  • মার্কেটিং এজেন্সির পরিচালক
  • মার্কেটিং/ব্র্যান্ড পেশাজীবী
  • বিভিন্ন কোম্পানির পরিচালক
  • বিভিন্ন পেশাজীবী 
  • Startup বিজনেস মালিক

যা যা শেখা যাবে এই ব্লগ থেকে

  • ডেটা ভিত্তিক ডিজিটাল মার্কেটিং এর মোটামোটি ধারণা পাবেন।
  • ডিজিটাল মার্কেটার হিসেবে নিজেকে কিভাবে গড়বেন সে বিষয়ে ধারণা পাওয়া যাবে।
  • ডেটা ডিজিটাল মার্কেটিং এররিসোর্স পাবেন।
  • কোথায় শিখবেন সহ ইত্যাদি।

ডেটা ড্রিভেন মার্কেটিং কি?

গত কয়েক বছর ধরে মানুষ ডিজিটাল ভাবে data-driven মার্কেটিং শুরু করেছে। প্রশ্ন থাকতে পারে যে Data-driven মার্কেটিং কি? Data-driven মারকেটিং কে বাংলায় তথ্য চালিত মারকেটিং বলা হয়।  কি হলো তথ্য নির্ভরশীল মার্কেটিং। ডেটল ড্রিভেন মার্কেটিং একটি কৌশল। এই ডাটার মধ্যে মূলত ইউজারের সম্পর্কে তথ্য ইনপুট থাকে।  ইউজারের আচরণ কেমন,  পছন্দ,  আর কি ভালো লাগে,  সে আসলে কি চাচ্ছে সবকিছুই ডাটা ড্রাইভার এর মধ্যে সংযুক্ত থাকে।  আর এই তথ্যগুলো বিভিন্ন মাধ্যমে  সংগ্রহ করা হয়।

মারকেটিং জগতে data-driven মার্কেটিং অন্যান্য মার্কেটিং থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন বলেই বিবেচিত।  কারণ হলো এই মার্কেটিং কৌশল এমন ভাবে এপ্লাই করা যায় যে একজন ইউজারের চাহিদা অনুযায়ী সঠিক সময় সঠিক প্লেস অনুযায়ী তাকে কোন একটি প্রোডাক্টের সম্পর্কে জানান দেওয়া হয়। যদি আপনি সাধারণ মার্কেটিং এর কথা চিন্তা করেন তবে,  বাজার বিশ্লেষণ করা ছাড়া মারকেটিং স্টার্ট করা হয় তবে  লস হবার সম্ভাবনা থেকে যায়। এবং এখানে ভুল-ভ্রান্তির অনেক বিষয় দেখা দেয়। কারণ মার্কেট রিসার্চ ছাড়া মার্কেটিং এপ্লাই করা হলে বলে।

ডাটা ড্রাইভের মার্কেটিং টেকনিক এপ্লাই এর ক্ষেত্রে যদি ঠিকঠাক ভাবে ইউজার ডাটা সংগ্রহে থাকে তবে বিজনেস গোলে পৌঁছাতে বেশি সময় অতিবাহিত করতে হবে না। কারণ এই মার্কেটিংয়ে ইউজারের সম্পূর্ণ চাহিদার  ডাটা সংগ্রহিত থাকে। সুতরাং বলা যায় ওই ডাটা অনুযায়ী  ইউজারগন যেকোনো অফার গ্রহণ করতে বাধ্য থাকবে। 

ডেটা ড্রিভেন ডিজিটাল মার্কেটিং শিখুন!

ডেটা ড্রিভেন মার্কেটিং এর ইতিহাস

মার্কেটিং এর অনেক বিষয় নানান ধরনের ডেটা বিশ্লেষন করে নিতে হয়। অডিয়েন্স টার্গেট করতে যে অনেক ডেটা এনালাইসিস করতে হয় সেখান থেকেই ক্রমে চলে আসে ডেটা ড্রিভেন মার্কেটিং ধারনা। ১৯৫০সালে নীলসেন মিডিয়া রিসার্চ টেলিভিশন প্রোগ্রামের অডিয়েন্সদের সম্পর্কে তথ্য প্রদান করতো। তখন থেকেই এই ডেটা কালেকশন ও বিশ্লেষনের সূচনা হয়। ১৯৮০সালে ডেটা নির্ভর এই মার্কেটিং আরও বিস্তার লাভ করে। তখন দেখা গেলো এই ধরনের ডেটা বিশ্লেষন করে কাস্টমারদের সাথে আরও গভীর সম্পর্ক তৈরি করা যায়। এই ধারাবাহিকতায় ডেটা কালেকশন ও বিশ্লেষনের জন্যে ১৯৯৩সালে WebTrends প্রথম ওয়েব এনালিটিক্স প্রোডাক্ট নিয়ে আসে। সেই ধারনা কাজে লাগিয়েই তৈরি হয়েছে  আজকের দিনের অত্যন্ত জনপ্রিয় টুলস যথাঃ google analytics, social media analytics, CRM, PPC, A/B test ইত্যাদি।

ডেটা ড্রিভেন মার্কেটিং এর ধারনা যেভাবে এলো

বর্তমানে এই মার্কেটিং পদ্ধতি অনেক বেশি আপডেট ও কার্যকর। সোস্যাল মিডিয়া আসার পর থেকে মূলত ডেটা বিষয়টি অনেক সহজলভ্য হয়ে যায়। কারন সোস্যাল প্লাটফর্ম ব্যবহারকারীর সংখ্যা কয়েক বিলিয়ন। আমরা যে ফেইসবুক কিংবা গুগল ব্যবহার করি, এই প্লাটফর্মগুলো কিন্তু আমরা ব্যবহার করার জন্যে শুধু ইন্টারনেট ডেটা ব্যবহার করি। আলাদা করে নেটফ্লিক্সের মতো পে করতে হয় না। এখন তাদের সুবিধা কি আমাদের ফ্রী চালানোর সুযোগ দিয়ে? তাদের সুবিধা হলো, তারা ফেইসবুকে আমি কি করলাম, কি লাইক করলাম, কি সার্চ করলাম এই বিষয়গুলো ট্র্যাক করে। অর্থাৎ তারা আমাদের সম্পর্কে পার্সোনাল অনেক ডেটা কালেক্ট করে রাখে। যেমন আপনি যদি ফেইসবুকে একবার টি-শার্ট লিখে সার্চ দেন তাহলে দেখবেন আপনার নিউজফিডে কয়েকদিন থেকে বিভিন্ন টি-শার্ট কোম্পানির নানান রকমের চটকদার বিজ্ঞাপন আসতে থাকবে। এটা ফেইসবুক বা গুগলের মতো জায়ান্ট কোম্পানিগুলো বিভিন্ন সফটওয়্যারের মাধ্যমে করে থাকে। তাদের কাছে মূলত ডেটার বিশাল ভান্ডার থাকে। এসব ডেটার উপর বেইজ করে বর্তমানে “Marketo” এর মতো অনেক বড় বড় কোম্পানি গড়ে উঠেছে যাদের কাজ হলো এসব ডেটা নিয়ে রিসার্চ করা।

যে কারনে ডেটা ড্রিভেন মার্কেটিং গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে

মানুষের ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের উপর তাদের চিন্তা ভাবনা ও আচার আচরন নির্ভর করে অনেকাংশে। ডেটা ড্রিভেন মার্কেটিং এটিকে কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন ডেটা কালেক্ট করে এবং এসবকে বিভিন্ন শ্রেনীবিভাগ করে। এসব ডেটা রিসার্চ করে একজন ক্রেতাকে সম্ভাব্য থেকে সত্যিকারের ক্রেতায় পরিনত করা যায়। 

উদাহরনস্বরুপঃ আপনার যদি একটি শুকনো খাবারের কোম্পানি থাকে যেখানে আপনি ডায়াবেটিস রুগীদের জন্যে এক ধরনের ক্যালরিমুক্ত বিস্কুট তৈরি করলেন। এখন আপনি যদি এই বিস্কুটের মার্কেটিং করে দেন সকলের নিকট তাতে দেখা যায় শতকরা ৫জন লোক আপনার এই বিস্কুট ক্রয় করছে। এখন আপনি ডেটা ড্রিভেন মার্কেটিং করে এই সেল কয়েকগুন বাড়িয়ে নিতে পারেন। কিভাবে? আপনাকে প্রথমে দেখতে হবে যে কারা কারা ডায়াবেটিসে আক্রান্ত । তারাই এই বিস্কুট কিনবে। আপনি বিভিন্ন প্লাটফর্মের কাছ থেকে এই ডেটাগুলো নিয়ে ঠিক ঠিক তাদের কাছে মার্কেটিং করলে আপনার এই বিজ্ঞাপন কয়েকগুন বেশি কার্যকর হয়ে যাবে। 

ডেটা ড্রিভেন মার্কেটিং ও ক্রিয়েটিভ মাইন্ড

ডেটার উপর নির্ভর করে যখন এড দেয়া হতো না তখন আসলে বিজ্ঞাপনগুলো সকলের উদ্দেশ্যেই দেয়া হতো। কিন্তু বর্তমানে তা আর হচ্ছে না। এখন অনেক ক্রিয়েটিভিটির সাথে এই বিজ্ঞাপনগুলো তৈরি করা হয়। আমরা এই বিষয়টিকেও একটা উদাহরনের মাধ্যমে বুঝার চেষ্টা করি। ধরি, ঢাকায় যারা অনলাইনে বিকেলে খাবার অর্ডার করেন তাদের ৫ভাগ চিকেন জাতীয় খাবার আর ৫ভাগ বিফ জাতীয় খাবার অর্ডার করেন। এখন যারা বিফ জাতীয় খাবার অর্ডার করেন তাদের নিকট চিকেন জাতীয় খাবারের বিজ্ঞাপন দিলে আবার যারা চিকেন জাতীয় খাবার পছন্দ করে তাদের নিকট বিফ জাতীয় খাবারের বিজ্ঞাপন দিলে নিশ্চয়ই আশানুরুপ ফল আসবে না। 

এখানে তারা উভয়েই কিন্তু অডিয়েন্স যেহেতু তারা অনলাইনে খাবার অর্ডার করে। তাহলে এখানে করনীয় কি? ক্রিয়েটিভ মাইন্ড বলে, এখানে দুটি আলাদা করে বিজ্ঞাপন দিতে হবে। একটি হবে চিকেন দিয়ে তৈরি খাবারের জন্যে আরেকটি বিফ দিয়ে তৈরি খাবারের জন্যে। এই বিজ্ঞাপনগুলো কখন সবচেয়ে বেশি কার্যকর হবে? নিশ্চয়ই বিকেলবেলা। তাই এই বিজ্ঞাপনগুলো দিতে হবে বিকেলে। আবার আপনি যদি দুইটা বিজ্ঞাপন বেশ ক্রিয়েটিভিটির সাথে একসাথে করে দিতে পারেন সেক্ষেত্রে আরও ভালো কারন আপনার বিজ্ঞাপন খরচ কমে যাবে। তার মানে হলো যে যত ক্রিয়েটিভ হতে পারবে সে তত লাভবান হতে পারবে।

ডেটা ড্রিভেন ডিজিটাল মার্কেটিং শিখুন!

কিভাবে ডেটা ব্যবহার করবেন?

আপনার যদি একটি ব্লগ ওয়েবসাইট থাকে এবং এই ওয়েবসাইটে যদি মান্থলি ২-৩মিলিয়ন ভিজিটর আসে, তবে আপনি চাইলে এসব ভিজিটরদের কাছে বিভিন্ন বিজ্ঞাপন দিয়ে সেইল জেনারেট করতে পারেন। 

ধরুন, আপনি শ্যাম্পুর বিজ্ঞাপন দিতে চাচ্ছেন। এখন সকলের নিকট এই বিজ্ঞাপন দিলে ভালো ফল আসবে না। আবার অনেক ভিজিটর এই বিজ্ঞাপনের কারনে বিরক্তও হতে পারেন। আর বিরক্ত হয়ে আপনার ওয়েবসাইট ভিজিট না করলে আপনি ট্রাফিক হারাবেন। সেজন্যে আপনি বিজ্ঞাপনটি তাদের কাছেই দিন যারা আদ্র এলাকায় বসবাস করে। কারন আদ্র এলাকায় থাকা লোকজনের শ্যাম্পু ব্যবহারের প্রবনতা বেশি আবার যারা আপনার ওয়েবসাইটে চুলের যত্ন নিয়ে ব্লগ পড়ে তাদের কাছেও দিতে পারেন। কারন তাদের শ্যাম্পু কেনার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। তাছাড়া, আপনার ওয়েবসাইটের কোন ভিজিটর কি লিখে সার্চ দিচ্ছে সে অনুযায়ী ডেটা তৈরি করুন। যারা বেশি টেক রিলেটেড লেখা যেমন মোবাইলের রিভিউ পড়ছে তাদের কাছে আপনি চাইলে মোবাইলের বিজ্ঞাপন দিতে পারেন। তাতে কার্যকরী হবে বিজ্ঞাপন। এভাবেই এই ডেটাগুলো ব্যবহার হয়ে থাকে যেটাকে আমরা ডেটা ড্রিভেন মার্কেটিং বলে থাকি। যার অধীনে যত বেশি ডেটা থাকবে তার মার্কেটিং ততবেশি কার্যকরী হবে। বর্তমানে গুগল , ফেইসবুকসহ জায়ান্ট কোম্পানিগুলো ডেটা ড্রিভেন মার্কেটিং এর মাধ্যমেই তাদের মার্কেটিং করে থাকে।

ডেটা ড্রিভেন মার্কেটিং এর উপকারিতা

ডেটা ড্রিভেন মার্কেটিং এর কয়েকটি উপকারিতা পয়েন্ট আকারে তুলে ধরা হলোঃ

গ্রাহক সম্পর্কে পূর্ব ধারনা

এই মার্কেটিং এ আপনি গ্রাহক সম্পর্কে আগেই ধারনা পেয়ে যাবেন। আপনার গ্রাহকের কি পছন্দ-অপছন্দ সে সম্পর্কে আপনি বিষদ ডেটা পেয়ে যাবেন। এছাড়া গ্রাহক সম্পর্কে অনেক পার্সোনাল ইনফরমেশনও আপনি জানতে পারবেন যেমনঃ আপনার গ্রাহকের জন্মদিন, সে কখন কোথায় যায় ইত্যাদি। এই বিষয়গুলো আগে থেকেই জানা থাকার কারনে আপনি খুব সহজেই গ্রাহকের সাথে ডিল করতে পারবেন এবং গ্রাহকের পছন্দ মতো বিজ্ঞাপন প্রদর্শনের মাধ্যমে অধিক সেইল জেনারেট করতে পারবেন। 

অডিয়েন্স সেগমেন্ট বুঝতে সাহায্য করে

আপনি একই পদ্ধতিতে বা একই মেসেজের সাহায্যে সকল গ্রাহকের সাথে কথা বলতে পারবেন না। এই মার্কেটিং এ আপনি গ্রাহক সম্পর্কে ধারনা থাকার ফলে সহজেই কিরুপ আচরন কার সাথে করতে হবে তা বুঝতে পারবেন। 

সঠিক ও ভুল চিহ্নিত করা

এই মার্কেটিং আপনাকে সেলস ফানেল তৈরি করতে সাহায্য করবে। কোনটা ভুল সিদ্বান্ত আর কোনটা সঠিক তা সহজ করে দিবে। ফলে ভুল হবার সম্ভাবনা অনেকাংশে কমে যায়।

লক্ষ্য টার্গেট করে প্রচারনা

এই মার্কেটিং পদ্ধতিতে আপনি আপনার লক্ষ্যকে কেন্দ্র করে প্রচার প্রচারনা চালাতে পারেন। প্রতিটি কাস্টমারের পছন্দ অপছন্দ, অনলাইনে তাদের কার্যকলাপের ডেটা আপনাকে একটি সফল বিজ্ঞাপনে সাহায্য করবে। 

ডেটা ড্রিভেন ডিজিটাল মার্কেটিং শিখুন!

এটি গুঞ্জন তৈরি করতে পারে

বাজারে একটি নতুন পণ্য আসলেই যে তা চাহিদা বা গুঞ্জন তৈরি করতে পারে এমন না। যে প্রোডাক্ট এর মান, দাম, উপকারিতা সম্পর্কে গ্রাহক অবগত থাকে সে প্রোডাক্ট-ই গ্রাহক কিনতে আগ্রহী হবে। ডেটা ড্রিভেন মার্কেটিং এ প্রোডাক্ট সম্পর্কে আগে থেকেই এর টার্গেট অডিয়েন্সকে অবগত করে দেয়া হয় যার ফলে এটি বাজারে আসলেই গুঞ্জন তৈরি হয়। 

কিভাবে ডেটা বা তথ্য ব্যবহার করা হয়?

আপনি যদি আপনার বিজ্ঞাপন একসাথে অনেকগুলো চ্যানেলে করে থাকেন তাহলে আপনি বিজ্ঞাপনের ফলাফল এনালাইসিস করে দেখতে পারেন কোন চ্যানেলে আপনার বিজ্ঞাপনটি কতটা সফল হয়েছে। যে বিজ্ঞাপনগুলোর সফল হওয়ার রেট বেশি সেগুলো কেন সফল হলো তা খুজে বের করতে পারেন। সেই সাথে অন্য চ্যানেলগুলোর বিজ্ঞাপন কমিয়ে ভালো পারফর্ম করা চ্যানেলের বিজ্ঞাপনটি চালিয়ে যেতে পারেন। ওয়েবসাইট চ্যানেলগুলো প্রায় ৩০লক্ষ লোকের ভৌগোলিক অবস্থানের ভিত্তিতে কোম্পানিগুলোকে বিজ্ঞাপনের জন্যে জায়গা করে দেয়। কোম্পানি এই জায়গা থেকেই তাদের টার্গেট অডিয়েন্সকে এড দিয়ে থাকে। ওয়েলমার্ট তাদের ওয়েবসাইটে সার্চ করা ক্রেতাদের জন্যে পণ্য খোজার বিষয়টিকে আরও সহজ করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে।

ডেটা ড্রিভেন মার্কেটিং কৌশল বাস্তবায়ন

ডেটা ড্রিভেন মার্কেটিং করার পূর্বেই আপনার লক্ষ্য নির্ধারন করে নিন। এরপর লক্ষ্য বাস্তবায়নে যে বিষয়গুলো করনীয় তা হলোঃ

  • আয়ের একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করুন। এলোমেলোভাবে না বাড়ানোর চিন্তা করে ১০% বা ১৫% আয় বৃদ্ধি করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করুন। 
  • ব্যয় যতটা সম্ভব কমিয়ে রাখার চেষ্টা করতে হবে।
  • লক্ষ্যগুলো যেন অপূরনীয় না হয়। এমন হলে আপনার উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন হবে না। 
  • লক্ষ্যগুলো অবশ্যই আপনার কোম্পানির সাথে প্রাসঙ্গিক হতে হবে এবং কোম্পানির জন্যে লাভজনক হতে হবে।
  • প্রতিটি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্যে নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারন করে দিন।
  • একটি স্ট্রং ও ক্রিয়েটিভ টিম তৈরি করুন যারা ডেটা বিশ্লেষনে যথেষ্ট দক্ষ। এই টিমে মার্কেটিং, আইটি, কাস্টমার রিলেশন ইত্যাদি থাকতে পারে
  • আপনার প্রয়োজনীয় ডেটা নির্ধারন করুন। ক্যাম্পেইনের সময় এসব ডেটা কাজে লাগিয়ে আরও নতুন ডেটা কালেকশন করতে পারেন। 
  • তৃতীয় কোনো পক্ষ হতে আপনার প্রয়োজনীয় ডেটা সংগ্রহ করে নিতে পারেন। 
  • ডেটা বিশ্লেষন করার জন্যে স্বয়ংক্রিয় টুল ব্যবহার করুন।

ডেটা ড্রিভেন মার্কেটিং এর গতিধারা

যেসব ব্যবসায়ী ডেটা ড্রিভেন মার্কেটিং করে ব্যবসায় গতি আনার চেষ্টা করছেন তারা এখান থেকে কয়েকটি ট্রেন্ড খুজে পাবেন। বর্তমানে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ও মেশিন লার্নিং এর ক্রম বর্ধমান প্রভাবে এই মার্কেটিং পদ্ধতি সহজ থেকে সহজতর হয়ে উঠেছে। ডেটা ড্রিভেন এই প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন তথ্য উপাত্তের বিশ্লেষন অতি দ্রুততার সাথে করতে পারছে ও কাস্টমারের সাথে আরও দক্ষতার সহিত ইন্টেরেক্ট করার সুযোগ হচ্ছে। 

ডেটা ড্রিভেন ডিজিটাল মার্কেটিং শিখুন!

যদি আপনি ইউজার হয়ে থাকেন

বর্তমানে সকল ওয়েবসাইট-ই তাদের নিজস্ব কুকি ও পলিসি অনুযায়ী ভিজিট করতে হয়। তাদের প্রাইভেসি পলিসি পড়লে দেখা যায়, ভিজিটরদের এখানে কোনো প্রাইভেসি থাকে না। একজন ভিজিটর কি করছে, কোথায় যাচ্ছে, কি খাচ্ছে সব ইনফরমেশন ওয়েবসাইট কোম্পানিগুলো ট্র্যাক করছে। আর এই তথ্যগুলো কাজে লাগিয়ে তারা ভিজিটরদের নিকট এড প্রদর্শন করে। তবে ইউজার হিসেবে ডেটা ড্রিভেন মার্কেটিং এর উপকারিতা রয়েছে। যেমন এর মাধ্যমে আপনাকে আপনার পছন্দনীয় নয় এমন বিরক্তিকর এড দেখানো হবে না। আবার আপনার প্রয়োজন এমন জিনিসগুলোর এড দেখানো হবে। 

ডেটা ড্রিভেন মার্কেটিং এর আপত্তিকর দিক

এই মার্কেটিং পদ্ধতিতে যেসব ডেটা ব্যবহার করা হয় সেগুলোর একটা বড় অংশ পার্সোনাল ইনফরমেশন বা ডেটা। কেউই চাইবে না যে অন্য কেউ বা কোনো প্রতিষ্ঠান তার উপর নিজের  অজান্তে ট্র্যাক করুক। এছাড়া নিজের এসব প্রাইভেসি কেউই সহজে অন্য কাউকে দিয়ে দিতে চাইবে না। 

পরিশেষে

পরিশেষে বলা যায়, আধুনিক মার্কেটিং এর বিষ্ময় হলো ডেটা ড্রিভেন মার্কেটিং। যেখানে স্পষ্টত গ্রাহকদের নির্ধারন করে দেয়ার সুযোগ থাকে আগে থেকেই ফলে বিজ্ঞাপন হয়ে উঠে আশানুরুপ কার্যকরী। 

We will be happy to hear your oughts

Leave a reply

You cannot copy content of this page

Monster Bangla
Logo
Compare items
  • Total (0)
Compare
Shopping cart